ট্রাম্পকে জিতিয়ে দিতে কাজ করেছেন পুতিন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্প্রতি এক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

মার্কিন প্রশাসনের এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়েছে, চূড়ান্ত বিজয়ী জো বাইডেন সম্পর্কে বিভ্রান্তিমূলক বা অসমর্থিত অভিযোগ ছড়িয়েছিল মস্কো। তবে কোনো বিদেশি সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে আপস করেননি।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ১৫ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানেরও হস্তপেক্ষপেরও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা গত ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে বাইডেন সম্পর্কে অসমর্থিত তথ্য ছড়িয়েছিলেন। এই অসমর্থিত তথ্যের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাইডেনের প্রতি আস্থা হ্রাসের চেষ্টা করেছেন।

এতে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে এবং প্রচারমাধ্যমগুলোতে বাইডেনবিরোধী প্রচারণার জন্য কাজ করেছিলেন।

এছাড়া রাশিয়া যখন ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল, তখন ইরান তার সমর্থনকে দুর্বল করার লক্ষ্যে একটি বহুমাত্রিক গোপনীয় প্রভাব অভিযান চালিয়েছিল বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকাকালে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপের নীতি অনুসরণ করে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিলেন। যে কারণে দেশটি ট্রাম্পকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায়নি।

প্রতিবেদনে প্রবল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপসংহারে এও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যে চীনের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন সাইবার-গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ করে আসছিল সেই চীন ভোটের আগে হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা চালানো পছন্দ করেনি।

ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি মার্কিন বিচার বিভাগ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ যৌথ প্রতিবেদন হিসেবে একইদিনে প্রকাশ করেছে এবং উভয়পক্ষই একই উপসংহারে পৌঁছেছে। এদিকে মার্কিন নির্বাচনে নিজেদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ বারবারই অস্বীকার করে আসছে রাশিয়া।

প্রসঙ্গত, গত ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ের পর ২০ জানুয়ারি ৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন জো বাইডেন। এই নির্বাচনে বাইডেন ৩০৬টি ইলেকটোরাল কলেজে জয় পেয়েছেন। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছিলেন ২৩২টি ইলেকটোরাল ভোট।

এই রকম আরো কিছু খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button