পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা : আইজিপি

পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা বিনষ্ট করলে দৃষ্টান্তমূলক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ এ বিষয়টি জনিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদরদফতরের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে তিন দিনব্যাপী অপরাধ পর্যালোচনা সভার শেষ দিনে সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে পুলিশ বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দেশের জনগণের ক্ষতি হয়।

আইজিপি আরও বলেন, বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে কোনো ধরনের আপোষ করা যাবে না। বাহিনীর শৃঙ্খলা ও কল্যাণ এক বিষয় নয়। শৃঙ্খলাকে কল্যাণের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা যাবে না। কোনো পুলিশ সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতেও আমরা যথেষ্ট সচেষ্ট রয়েছি।
জুনিয়রদের কাজকর্ম তদারক করতে হবে। সিনিয়র সহকর্মীদের জুনিয়রদেরকে পুলিশ বাহিনীর একজন যোগ্য সদস্য হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বেনজীর আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনায় আমরা দেশ ও জনগণের কল্যাণে দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ সদস্যদের মাদকের সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লেষ থাকলে তাকে বেরিয়ে আসতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্যের মাদক গ্রহণ, মাদক ব্যবসা বা মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শারীরিক ও মেধার দিক থেকে অধিকতর যোগ্যদের কনস্টেবল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। তাই নতুন নীতিমালায় নিয়োগ করা হচ্ছে পুলিশ কনস্টেবল। উন্নত দেশের নিয়োগ নীতিমালা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ পুলিশের উপযোগী কনস্টেবল নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে মেধা ও শারীরিক দিক থেকে যোগ্যদের কনস্টেবল পদে নিয়োগে সক্ষম হবো। পুলিশের এসআই এবং সার্জেন্ট পদেও নতুন নীতিমালা অনুযায়ী লোক নিয়োগ করা হবে। সাধারণ মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ বদলাতে হবে। মানুষের প্রতি অমানবিক আচরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হচ্ছে যেখানে অনেক বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন। তাদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

পুলিশের প্রধান দায়িত্ব হলো মামলা তদন্ত করা। মামলা তদন্তের মান আরও বাড়াতে হবে। তদন্তের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী হতে এবং তদারকি বাড়াতে তিনি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত মনিটর করতে হবে, যাতে কোন সাধারণ নাগরিক সাইবার ক্রাইমের শিকার না হন। সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সরকারের ও পুলিশ বাহিনীর অনুশাসন মেনে চলার নির্দেশ দেন তিনি।

এই রকম আরো কিছু খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button