ফুটপাতে পরে থাকা এক রিকশা চালক লাশের পাশে ভোরের বাংলাদেশের সাংবাদিক ও হাতিরজিল থানা পুলিশ

গতকাল সন্ধ্যা ৬.৩০ অফিস থেকে বের হয়ে বাসে করে মগবাজার ওয়্যারলেস গেট নামার পর দেখলাম কিছু মানুষের জটলা,মনে করলাম ছিনতাইকারী কিন্তু না এক রিকশাওয়ালা অসুস্থ হয়ে ফুটপাতে পরে আছে কিছু মানুষ আগ্রহ নিয়ে মোবাইলে ছবি ও তুলছে,আমি এক প্রকার দমক দিয়ে মানুষের ভিড় ঠেলে আরো সামনে গিয়ে দেখলাম আনুমানিক ৫০ বছরের এক রিকশা চালক ফুটপাতে পড়ে আছে পাশে তার রিকশাটিও রাখা। আমি দেখে বুঝতে পারলাম ওনি ষ্ট্রোক করেই হয়তো মারা গেছে,কিছু মানুষ শুধু কৌতুহল দৃষ্টিতে দেখছে কিন্তু কেউ কোন সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসছেনা,কারন কেই কোন ঝামেলায় জড়াতে চাচ্ছেনা।

সাংবাদিক হিসেবে আমি তো আর দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারিনা,তাই কোন দেরি না করে কৌতুহল মানুষদের সরিয়ে ওনার জামার পকেট চেক করে দেখলাম পকেটে সারাদিনের পরিশ্রমের ১৩৪ টাকা,কিন্ত কোন মোবাইল নেই,পরিচয় পত্র ও নেই, টেনশনে পরে গেলাম কি করব ??
হটাৎ তার রিকশার পিছনে একটা মোবাইল নং দেখতে পেলাম ওই নম্বরে ফোন দিলাম ওপাশ থেকে এক ভদ্রলোক বললো হ্যাঁ এটা আমার রিকশা আমি গ্যারেজের মালিক মামুন,আর রিকশার ড্রাইভারের নাম আনোয়ার,আমি বললাম আপনাকে একটু আসতে হবে আর যদি সম্ভ্ব হয় ওনার ফ্যামিলির যদি কেউ থাকে তা হলে সাথে করে নিয়ে আসেন তিনি ফুটপাতে পরে আছে মনে হয় মারা গেছে ওনারা আসলো দুইঘণ্টা পর।
এই ফাকে আমি হাতিরঝিল থানার ওসি সাহেব রশীদ ভাইকে ফোন দিলাম ওনি বললো আমি ফোর্স পাঠাচ্ছি ১০ মিনিটের মধ্যেই দুই গাড়ি পুলিশ আসলো,এ এস আই কুদ্দুস ভাই ও এস আই আলমগীর ভাইয়ের নেতৃতে,ওনারা এসে এত সহোযোগীতা করলো যা আমি কোনোদিন আশা করিনি।
লাশ তুলে রাশমনো হাসপাতালে নেয়া হলো,টেষ্ট করলো,এবং ঘটনার সব তথ্য দিয়ে একটা রিপোর্ট করলো,ডেথ সার্টিফিকেট নিলাম,আমি পুরো ঘটনা সম্পর্কে পুলিশকে অভিহিত করে সকল প্রকার সহযোগিতা করলাম আমার সাথে আরো ২-৩ জন প্রতক্ষদর্শী হিসেবে ঘটনার বিবরণ দিলো আবার অনেকেই পুলিশের ঝামেলার ভয়ে এক এক করে কেটে পরলো।
প্রায় ২ ঘন্টা পর এক আত্মীয়,ছেলে ও রিকশার গ্যারেজের মালিক আসলো,ছেলের কাছে তার বাবার লাশ,পকেটে থাকা ১৩৪ টাকা ও রিক্সাটা বুঝিয়ে দিলাম। বুঝিয়ে দিয়ে চোখের পানি ফেললাম আর ভাবলাম মানুষের মৃত্যু কোথায় কে কখন মারা যাবে কিভাবে কার মৃত্যু হবে একমাত্র আল্লাহ ই ভালো জানে।
নিজেকে এই বলে সান্ত্বনা দিলাম অন্তত ফুটপাতে পরে থাকা লাশটা বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে গন্য না হয়ে কোন রকম পুলিশি ঝামেলা ছাড়া,পোষ্ট মার্টেম রিপোর্ট ছাড়া ছেলের হাতে বাবার লাশ বুজিয়ে দিতে পেরে।
ছেলেটির বয়স ১৮ কি ১৯ হবে দুচোখ বেয়ে পানি পড়ছে আর আমাদেরকে বলছে তার বাবা একজন ভালো ড্রাইভার ছিল অস্ট্রেলিয়ান এম্বাসীতেও ড্রাইভার হিসেবে অনেক দিন চাকুরী করছে,করোনার জন্য চাকুরী চলে গেছে তাই বাধ্য হয়ে পেটের দায়ে আজকে দুপুর ২.০০ টা বাজে রিকশা নিয়ে বের হয় এই বলে আবার কান্না শুরু করলো। আল্লাহ ওনাকে বেহেশত নসীব করুক।
“আসুন মানুষ হিসেবে অন্য একজন মানুষের বিপদে এগিয়ে যাই ভয়কে করি জয়”
ধন্যবাদ হাতিরঝিল থানার ওসি স্যার’ যিনি যে কোন প্রয়োজনে ফোন দিলে সবার আগে এগিয়ে আসেন।ধন্যবাদ এ এস আই কুদ্দুস ভাই ও এস আই আলমগীর ভাই ও আপনার টিমকে।
 

এই রকম আরো কিছু খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button