লক্ষলক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

তাহিরপুরে অবৈধ চুনাপাথরসহ নৌকা আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া- সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বালিয়াঘাট ও চারাগাঁও সীমান্ত এলাকা দিয়ে লক্ষলক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে কয়লা ও চুনাপাথর পাঁচার করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

আজ মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্ভর) সকাল ৬টায় সীমান্তের পাটলাই নদী থেকে ১৪ মেঃটন অবৈধ চুনাপাথর বোঝাই ১টি ইঞ্জিনের নৌকাসহ ১জন মাঝিকে সেন্টিরা আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে কয়লা ও চুনাপাথর আমদানি কারক সমিতির পাহারাদার (সেন্টি) ও স্থানীয়রা জানান, আজ মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্ভর) ভোরে চারাগাঁও সীমান্তের পাচাঁরকৃত ১৪মেঃটন অবৈধ চুনাপাথর ইঞ্জিনের নৌকায় বোঝাই করে পাটলাই নদী দিয়ে আনোয়ারপুর নিয়ে যাওয়া সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেন্টি ছয়ফুল ও তার ৪জন সহযোগী মিলে শ্রীপুর এলাকায় নৌকার মালিক ও মাঝি সোহেল মিয়াকে আটক করে। কিন্তু দুপুর ১টায় সেই চুনাপাথরসহ নৌকা ও মাঝিকে ছেড়ে দেয়।

অপরদিকে বালিয়াঘাট ও চারাগাঁও সীমান্তের লাকমা, লালঘাট, বাঁশতলা ও এলসি পয়েন্ট এলাকা দিয়ে সোর্স ইয়াবা কালাম, রমজান মিয়া, শফিকুল ইসলাম ভৈরব, একদিল মিয়া, কদ্দুস মিয়া, খোকন মিয়া, মানিক মিয়া, হারুন মিয়া, বাবুল মিয়া, শহিদুল্লাহ, করিম মিয়া, এরশাদ মিয়া, কাসেম মিয়াগং ভারত থেকে পৃথক ভাবে ৪৫মেঃটন কয়লা পাঁচার করে ৩টি ইঞ্জিনের নৌকায় বোঝাই করে টাঙ্গুয়ার হাওর দিয়ে নেত্রকোনা জেলার কমলাকান্দা উপজেলার সদরের মনতলা এলাকার কয়লা ব্যবসায়ী আজিজ মিয়া ও সাজু মিয়া ডিপুতে নিয়ে মজুত করে।

এরআগে গত শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্ভর) সকাল ৭টায় একদিল মিয়া, খোকন মিয়া, মানিক মিয়া, শহিদুল্লাহর পাচাঁরকৃত ৫মেঃটন চোরাই কয়লা বোঝাই ১টি ইঞ্জিনের নৌকাসহ ২জন মাঝিকে আটক করে টাঙ্গুয়ার হাওরের দায়িত্বে থাকা রামসিংপুর ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা। পরে রহস্যজনক কারণে বেলা ১১টায় ওই ক্যাম্পের আনসার কমান্ডার পিসি জাহাঙ্গীরের নির্দেশে অবৈধ চোরাই কয়লা বোঝাই নৌকাসহ ২জনকে ছেড়ে দেয় আনসার সদস্যরা।
আর এই ঘটনাটি জানতে পেরে টাঙ্গুয়ার হাওরের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি রায়হান কবির আনসারদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।

এব্যাপারে কয়লা ও চুনাপাথর আমদানি কারক সমিতির পাহারাদাররা (সেন্টি) ছয়ফুল মিয়া বলেন, বৈধ কয়লা ও চুনাপাথর গোপনে অথবা রাতের আধারে লুকিয়ে কেউ নেয়না। অবৈধ চুনাপাথর নৌকা বোঝাই করার খবর পেয়ে সমিতির দায়িত্বে থাকা আমরা ৫জন সেন্টি মিলে আটক করেছি। কিন্তু অবৈধ পাথর কেন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তা আমাদের সভাপতি বলতে পারবেন।
কয়লা ও চুনাপাথর আমদানি কারক সমিতির আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সেন্টি সমিতির সভাপতি আবুল খায়ের বলেন, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যারা কয়লা ও চুনাপাথর পাঁচারসহ বিভিন্ন অন্যায় কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে একমাত্র আমি লড়াই করছি। আমি এলাকায় নেই, সেন্টিরা চুনাপাথরসহ নৌকা আটকের ঘটনাটি আমাকে জানিয়েছে। এই বিষয়টি আমাদের উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লিটন খন্দকার সাহেব সমাধান দিয়েছেন জানতে পেরেছি। এব্যাপারে জানতে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লিটন খন্দকারের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে কল করার পর ফোন রিসিভ করে সাংবাদিকদের জানানো হয় তিনি অসুস্থ্য, কথা বলা সম্ভব না। তাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এই রকম আরো কিছু খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button