লাথি মেরে স্ট্যাম্প উড়িয়ে আম্পায়ারের দিকে তেড়ে গেলেন সাকিব!

বিশেষ সংবাদদাতা

আরো একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্ম দিলেন সাকিব আল হাসান। এবার শুধু অপরাধই করেননি, মাঠে ক্রিকেটের জঘন্য ঘটনা ঘটালেন। তেড়েফুড়ে গেলেন আম্পায়ারকে মারতে! রাগে স্টাম্পে লাথি মারতেও পিছু পা হননি। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করলেন!

ওটাই একমাত্র ঘটনা নয়। মিরপুরে বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে আম্পায়াররা যখন কভার আনার ডাক দেন তখন আবার মেজাজ হারান সাকিব। এবার তেড়েফুড়ে গিয়ে তিন স্টাম্প তুলে আছাড় দেন। রাগ তখনও কমেনি সাকিবের। আম্পায়ারের সঙ্গে ঔদ্বত্যপূর্ণ আচরণ করতেই থাকেন। ছুটে যান মাঠের বাইরে আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদের দিকেও।

সেখানে আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদের সঙ্গে দূর থেকেই চিৎকার চেঁচামেচি হয় তার। পরবর্তীতে মোহামেডানের খেলোয়াড় শামসুর রহমান শুভ খালেদ মাহমুদকে এবং মোহামেডানের বোলিং কোচ ডলার মাহমুদ সাকিবকে সরিয়ে নেন।

শুক্রবার মিরপুরে আবাহনী ও মোহামেডানের ম্যাচে ঘটে এমন ঘটনা। মোহামেডানের দেওয়া ১৪৬ রানের জবাবে তখন ব্যাটিং করছিল আবাহনী। ৫.৫ ওভারে ৩১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শিরোপা প্রত্যাশিরা। বৃষ্টি আইনে মোহামেডান ১৬ রানে এগিয়ে। বৃষ্টিতে খেলা না হলে আবাহনীকে হারায় মোহামেডান।

তবুও মেজাজ হারালেন সাকিব। ক্ষেপে তিন স্টাম্প তুলে মাটিতে আছাড় দেন। এর আগের ওভারে নিজের বোলিংয়ে আবাহনীর অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে এলবিডব্লিউ আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় স্টাম্পে লাথি মেরে আম্পায়ার ইমরান মাহফুজের দিকে তেড়ে যান। রাগান্বিত হয়ে তাকে কথাও বলতে দেখা যায়। হতভম্ব হয়ে তার দিকে তাকিয়ে ছাড়া কিছুই করার ছিল না।

কিছুদিন আগে লিগের বায়ো বাবল ভেঙে সাকিব অনুশীলন করায় তদন্তের মুখে পড়েছিল তার ক্লাব মোহামেডান। এজন্য মোহামেডানকে সতর্ক করে ‘ছাড়’ দিয়েছে বিসিবি ও সিসিডিএম। সাকিবও এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। সেই রেশ না কাটতেই এবার আরও বড় কাণ্ড সাকিবের।

মাঠে পারফরম্যান্সে সাকিব খুব ভালো সময় কাটাচ্ছিলেন না। তবে আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। ব্যাটিংয়ে ১ চার ও ২ ছক্কায় ২৭ বলে ৩৭ রান ছিল দলের হয়ে সর্বোচ্চ। বোলিংয়ে মুশফিকের হাতে একমাত্র ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে এক চার ও ছক্কা হজম করেন। সাকিবের মেজাজ হারানো শুরু সেখানেই।

ওই ওভারের ষষ্ঠ বল মুশফিকের পায়ে লাগলে আবেদন করেন সাকিব। আম্পায়ার ইমরান পারভেজ নট আউট জানানোর সেকেন্ড ব্যবধানে স্টাম্পে লাথি দেন। এরপর উত্তেজিত হয়ে কথা বলতেই থাকেন। সতীর্থরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

পরের ওভারে এক্সটা কাভার থেকে দৌঁড়ে এসে দুই হাতে দুই স্টাম্প তুলে আছাড় মারেন। আবার পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায়। এরপর বৃষ্টি জলে ভেসে যায় মাঠ

Pin It

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *