৫ বছর ধরে মাদকাসক্ত পরীমনি, ভয়ংকর মাদক এলএসডি ও আইস সরবরাহ করতেন রাজ

কাজী সামাদ /হাফিজুর রহমান ঃ মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার সহযোগী মিশু হাসান ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানের সঙ্গে মিলে একটা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন আলোচিত নায়িকা পরীমনি ও পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম ওরফে রাজ। এই চক্রটি প্রায় প্রতি রাতেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের নামী-দামি বাড়ি ও ফ্ল্যাটে বসাতেন ডিজে পার্টি। সেখানে করা হতো নানা রকমের ‘অনৈতিক কাজ’।

রাজধানীর বনানী থেকে অবৈধ মাদকসহ শামসুর নাহার স্মৃতি ওরফে স্মৃতিমনি ওরফে পরীমনি ও মো. নজরুল ইসলাম ওরফে রাজসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

আজ বৃহস্পতিার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর কুর্মিটোলা র‍্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন। তিনি জানান, এই চক্রটি সমাজের উচ্চবর্গের মানুষকে টার্গেট করে তাদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ডিজে পার্টি বসাত। সেখানে চলত মাদক সেবন ও বিভিন্ন অনৈতিক কাজ।

খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তার মিশু হাসান, জিসান, পরিমনী ও রাজকে জিগাসাবাদের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি আমরা। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ঢাকার আরও কিছু ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়া গেছে। যেগুলোর তথ্য তারা প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে দিয়েছে। তবে তাদের দেওয়া এসব তথ্য উদ্দেশ্যমূলক কি না, সেটা যাচাই-বাছাই করে আরও এমন কিছু ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, মূলত পরীমনিকে যারা মাদক সরবরাহ করতেন, তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন রাজ। এ ছাড়া আরও কে কে এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাব জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে পরীমনি জানিয়েছেন, ২০১৬ সাল থেকেই তিনি মদের প্রতি আসক্ত হয়ে গেছেন। এরপর অন্য মাদকও গ্রহণ করতেন। পরীমনির বাসা থেকে ১৭ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এটা কোনো লাইসেন্সে কাভার করে না। এ ছাড়াও অভিযান পরিচালনার সময় তার বাসা থেকে মদের একটি লাইসেন্সের কপি আমরা পেয়েছি। কিন্তু সেটা বহু আগের মেয়াদোত্তীর্ণ।

র‌্যাব জানায়, ভয়ংকর মাদক এলএসডি ও আইস সেবন করতেন পরীমনি। তাছাড়া মদে মাত্রাতিক্তি আসক্তি তার। নিজ বাসায় একটি মিনি বারও রয়েছে তার। চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ পরীমনির বাসায় এসব মাদক সরবরাহ করতেন। মিনিবার থাকায় তার বাসায় পার্টির আয়োজন করা হতো। সেই পার্টিতে বিভিন্ন প্রকার মাদক সরবরাহ করতেন রাজ।

ব্রিফিংয়ে র‍্যাব আরও জানায়, রাজের বাসা থেকেও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজের কম্পিউটার ও ডিভাইস থেকে পর্নোগ্রাফি কন্টেন্ট পাওয়া গেছে। তাই পরীমনির বিরুদ্ধে মাদক মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং রাজের বিরুদ্ধে মাদক মামলা এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।

এই রকম আরো কিছু খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button