সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দুই সীমান্তে
বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চোরাকারবারী ও সোর্স পরিচয়ধারীরা। তারা প্রতিদিন
লাখলাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে পাচাঁর করছে ঘোড়া, গরু, কয়লা,
বিড়ি ও পাথরসহ নানান প্রকার পন্য-সামগ্রী ও মাদকদ্রব্য। তাই কোটিকোটি
টাকার অবৈধ মালামাল উদ্ধার করাসহ সোর্স ও চোরাকারবারীদের গ্রেফতারের জন্য
বিশেষ অভিযান জরুরী প্রয়োজন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে- প্রতিদিনের মতো আজ বৃহস্পতিবার (৫ই
ডিসেম্বর) ভোর থেকে লাউড়গড় সীমান্তের ১২০৩এর ৩এস পিলার ও সাহিদাবাদ
বিজিবি পোষ্টের সামনে দিয়ে, ভারতের প্রায় ৩শ গজ ভিতর থেকে ৪-৫শ লোক দিয়ে
পাথর পাচাঁর শুরু হয়। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সারাদিন ভারত থেকে লাখলাখ টাকার পাথর
পাচাঁর করে ঠেলাগাড়ি বোঝাই করে বিজিবি ক্যাম্পের সামনে দিয়ে লাউড়গড়
বাজারের চারপাশে মজুত করা হলেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়না। তবে পাথর পাঁচারের
খবর পেয়ে মাঝে মাঝে বিএসএফ এসে লোকজনকে তাড়া করে এবং যেকোন সময়
ঘটতে পারে দূঘটনা। এছাড়া গতকাল বুধবার (৪ই ডিসেম্বর) রাত ১২টার পর থেকে
আজ বৃহস্পতিবার (৫ই ডিসেম্বর) ভোর পর্যন্ত জাদুকাটা নদী দিয়ে ভারত থেকে
৩শ বারকি নৌকা বোঝাই করে কয়লা, পাথর, ফুছকা, চিনি, ফল ও বিভিন্ন প্রকার
মাদকদ্রব্যসহ কোটি টাকার মালামাল সোর্স পরিচয়ধারীরা পাচাঁর করেছে খবর
পাওয়া গেছে। এই নদী দিয়ে চোরাচালান করতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে ও তাড়া
খেয়ে পানিতে ডুবে এপর্যন্ত শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া প্রায়
সময় লোক আটক করে বিএসএফ। তারপরও নেওয়া হয়না জোড়ালো কোন পদক্ষেপ। গত
বুধবার (২৭ শে নভেম্বর) সকালে জাদুকাটা নদীতে বিজিবি অভিযান চালিয়ে ১৪
লাখ ৩১ হাজার ২শ ৫০ টাকা মূল্যের ভারতীয় চিনি ও ফলের চালান জব্দ করার পরও বন্ধ
হয়নি এই সীমান্তের চোরাচালান বাণিজ্য। অন্যদিকে জাদুকাটা নদীর দুই তীর
কেটে দীর্ঘদিন যাবত চলছে রমরমা বাণিজ্য। সীমান্ত কিংখ্যাত সোর্স
পরিচয়ধারী একাধিক মামলার আসামীরা চোরাকারবারীদের নিয়ে সিন্ডিকেড তৈরি
করে তাদেও চোরাচালান বাণিজ্য ওপেন চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া গতকাল বুধবার (৪ই
ডিসেম্বর) রাত ১২টার পর থেকে আজ বৃহস্পতিবার (৫ই ডিসেম্বর) ভোর পর্যন্ত
চাঁনপুর সীমান্তের বারেকটিলার আনন্দপুর এলাকা দিয়ে ভারত থেকে প্রায় ২০লাখ
টাকার ফুছকা, চিনি, কম্বল, নাসিরউদ্দিন বিড়ি ও মদ পাচাঁর করে বিভিন্ন
বাড়িঘরের ভিতরে মজুক করাসহ ১২০৩পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে বস্তা ভর্তি করে
কমলা ও মদ এক সাথে পাচাঁর করেছে সোর্স ও চোরাকারবারীরা। এরআগে গত
মঙ্গলবার (৩ই ডিসেম্বর) রাত ২টা থেকে এই সীমান্তের কড়ইগড় প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের উত্তর দিকে অবস্থিত বুলুর বাড়ির সামনে দিয়ে ভারত থেকে ১০টা
ঘোড়াসহ প্রায় ১৫লাখ টাকার ফুছকা, বিড়ি ও মদ পাচাঁর করে বাদাঘাট বাজারে
নিয়ে যায় চোরাকারবারীরা।
এব্যাপারে উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার কফিল উদ্দিন বলেন- সোর্স ও
চোরাকারবারীরা সবাইকে ম্যানেজ করে কোটিকোটি টাকার মালামাল পাচাঁর
করে। আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণে চোরাকারবারীরা হামলা করে
আমাকে মেরে ফেলতে ছেয়েছিল। এনিয়ে থানায় মামলা করেছি। সীমান্ত
চোরাচালান বন্ধের জন্য কেউ জোড়ালো কোন ভূমিকা পালন করেনা। এব্যাপারে
চাঁনপুর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার রায়হান বলেন- আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে
গিয়ে কিছুই পাইনা। লাউড়গড় বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার মোস্তাফা কামাল বলেন-
আমি কোন কিছুর সাথে জড়িত না, সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধ করার জন্য
চেষ্ঠা করছি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জাদুকাটা নদীর তীর কেটে বালি ও পাথর বিক্রির সময় অভিযান
চালিয়ে ২জনকে গ্রেফতার করেছে নৌ-পুলিশ। এছাড়া চাঁনপুর সীমান্তের
বারেকটিলায় র্যাব পৃথক অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার ও মদসহ ৫জনকে মাদক
ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করাসহ বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা থেকে মদের
চালানসহ ৩জন মাদক ব্যবসায়ীকে পৃথক অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে
ডিবি পুলিশ ও র্যাব। আর আগে জাদুকাটা নদীর ছিলা বাজার, শিমুল বাগান,
বডার বাজার ও পুরান লাউড় এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়ে গাঁজা ও
ইয়াবাসহ ১০-১৫জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র্যাব। এছাড়াও জাদুকাটা নদী ও
লাউড়গড় বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পৃথক অভিযান চালিয়ে কোটিকোটি
টাকার পাথর ও বালি জব্দ করেছে। তাই চাঁনপুর ও লাউড়গড় সীমান্ত চোরাচালান বন্ধ
করার জন্য ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালানা করাসহ সোর্স ও চোরাকারবারীদের
গ্রেফতার করার জন্য যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান জরুরী প্রয়োজন।
