মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থেকে ফিরে –
# সফিউর রহমান সফিক #
মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানা পুরাতন মেঘনা ফেরিঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত চলছে কোটি কোটি টাকার চোরাই তেলের ব্যবসা । অনুসন্ধানে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে মেঘনা ঘাট এলাকার জাফর(পিতা মঞ্জুর সরদার), নাসির প্রধান (গজারিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী রিটু প্রধান এর চাচা) আল-আমিন সরদার (পিতা মনির সরদার) সহ বেশ কয়েকজন চোরাই তেল ব্যবসার সাথে জড়িত বলে এমন অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে পেট্রোল, ডিজেল সহ জ্বালানি তেলের ব্যবসার জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর হতে অনুমোদনের লাইসেন্সের প্রয়োজন হয় কিন্তু মেঘনা ঘাটের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী জাফর, নাসির প্রধান ও আল-আমিন সরদার সহ অনেকেরই নেই তেল মজুদ , জ্বালানি তেল ক্রয় বিক্রির লাইসেন্স অথচ উল্লেখিত তেল ব্যবসায়ীদের প্রত্যেকের জাহাজে ও ড্রাম সহ বিভিন্ন গোডাউনে মজুদ রয়েছে লাখ লাখ লিটার জ্বালানি তেল ডিজেল।

তবে উল্লিখিত তেল ব্যবসায়ীদের জাহাজ ও গোডাউনে এই লাখ লাখ লিটার জালালি তেল আসে কোত্থেকে এর অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে প্রতিদিন মেঘনা ঘাট এলাকায় বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে কাঁচামাল ও বিভিন্ন পণ্য নিয়ে অসংখ্য জাহাজ এর সমাগম ঘটে, মেঘনা ঘাট ও তার আশপাশ এলাকায়। মেঘনা নদীতে এই সব নোঙর করা থাকা অবস্থায় জাহাজ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে চোরাই ভাবে কম দামে চোরাই তেল সংগ্রহ করে পরবর্তীতে চড়া মূল্যে বিভিন্ন যানবাহন , পেট্রোল পাম্প সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে চক্রটি। প্রতিদিন এইসব জাহাজগুলো থেকে হাজার হাজার লিটার তেল চোরাই ভাবে নামায় মেঘনা ঘাট এলাকার চোরাই তেল ব্যবসায়ী জাফর ,নাসির প্রধান ,আল-আমিন সহ মেঘনা ঘাট এলাকার কয়েকজন চোরাই তেল ব্যবসায়ী। এছাড়া মেঘনা নদী দিয়ে ডিপোতে জ্বালানি তেল নিয়ে যাওয়ার সময় তেলের জাহাজগুলো নদীর মাঝখানে নাবিকদের যোগসাজশে থামিয়ে উল্লেখিত চোরাকারবারিরা তেল ব্ল্যাক এ ক্রয় করে তাদের জাহাজে মজুদ করে এগুলো বিভিন্ন পাম্পে বিক্রি করছে এমন অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে বহুদিন থেকে। অন্যদিকে গোদনাইল ডিপো থেকে তেল চোরাকারবারি জাফর ,নাসির প্রধান আলামিন গং চোরাই ভাবে তেল ক্রয় করে সেগুলো তাদের গোডাউনে মজুদ করে বিভিন্ন যানবাহন ও পাম্প সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। সূত্রে আরও জানা গেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অসৎ কিছু কর্মকর্তার সহায়তায় প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে চোরাকারবারি জাফর , আল-আমিন সরদার ও নাসির প্রধান করছে অবৈধ জ্বালানি তেলের ব্যবসা। অবৈধ এই জ্বালানি তেলের ব্যবসা করে জাফর ,নাসির প্রধান, আল-আমিন গং কোটি কোটি টাকা ও বিপুল সম্পদের মালিক। আল-আমিন বৈধ জ্বালানি তেল ব্যবসার আড়ালে করছে অবৈধ তেল ব্যবসা। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে মেঘনা ঘাটে চোরাই তেল ব্যবসায়ী জাফর এক সময় মেঘনা ঘাট এলাকার এক দোকানের তিন হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী সেই ৩০০০ টাকা বেতনের কর্মচারী জাফর আজ চোরাই তেলের ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা ও বিপুল সম্পদের মালিক। জানা গেছে জাফর এর নামে বেনামি করেছে বিপুল সম্পদ । কয়েকটি ব্যাংক রয়েছে তার কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স। সূত্রে আরও জানা গেছে জাফর চোরাই ব্যবসা করে বর্তমানে একাধিক ফ্লোটিং পাম্পের মালিক। যে জাফরের এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরায় সেই জাফর আজ কোটি কোটি টাকাও বিপুল ধন সম্পদের মালিক কি করে এই নিয়ে মেঘনা ঘাট ও তার আশ-পাশ এলাকায় মানুষের মুখে মুখে চলছে তার চোরাই তেল ব্যবসা নিয়ে মুখরোচক গল্প কাহিনী। আরো জানা গেছে মুন্সিগঞ্জ জেলার উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তা কোষ্টগার্ড , নৌপুলিশ কর্মকর্তা সহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে জাফর বহুদিন যাবৎ করছে অবৈধ জ্বালানি তেলের ব্যবসা। এলাকার জনগণ ও বিভিন্ন মহল মেঘনা ঘাটের চোরাই তেল সহ অবৈধ ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ করার পরও প্রশাসন চোরাই তেল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় দিন দিন বেড়েই চলছে তাদের চোরাই তেল ব্যবসা সহ অবৈধ কর্মকান্ড। এদিকে জাফর, নাসির প্রধান ও আল- আমিনের জ্বালানি তেলের অবৈধ ব্যবসার বিষয় জানতে তাদের মোবাইলে ফোন করলে তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি। প্রশাসন এর নাম ভাঙ্গিয়ে মেঘনা ঘাট এলাকার চোরাই তেল ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে করছে অবৈধ জ্বালানি তেলের ব্যবসা এই বিষয়ে থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জানতে গজারিয়া থানায় ফোন করলে এই বিষয়ে কথা হয় ওসি তদন্ত আমিনুল ইসলাম এর সাথে তিনি বলেন আমি ৭ দিন আগে গজারিয়া থানায় যোগদান করেছি। আজ চোরাই তেল ব্যবসায়ীদের বিষয়ে জানলাম অচিরেই মেঘনা ঘাট এলাকার চোরাই তেল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে ওসি তদন্ত জানান।
