শামীমা রহমান,ইবি প্রতিনিধি
২০১২ সালে গুম হওয়া কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ এবং আল ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের আল মুকাদ্দাসের সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দুই শিক্ষার্থীর সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন করেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ এবং আল ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, “শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ভাইদের ফিরে পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা। ফ্যাসিস্ট সরকার চলে গেলেও আমরা আমাদের ভাইদের ফিরে পাইনি। ব্যারিস্টার আরমান ফিরেছে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে আহ্বান জানাই,আমাদের ভাইদের সন্ধান দিন। আর যদি তারা জীবিত না থাকে, তাহলে তাদের লাশের সন্ধান দিন। তাদের লাশ কোথায় দাফন হয়েছে আমাদের সন্ধান দিন।আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই,আমাদের ভাইদের সন্ধান দিন। পাশাপাশি আমরা তাদের গুমের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের বিচার চাই।”
প্রসঙ্গত,২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী হানিফ এন্টারপ্রাইজের ৩৭৫০ নম্বর গাড়িতে করে ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন ওয়ালিউল্লাহ ও মোকাদ্দাস। পথে আশুলিয়ার নবীনগর থেকে ডিবি ও র্যাব পরিচয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তবে তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আল মুকাদ্দাস ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও ওয়ালিউল্লাহ অর্থ সম্পাদক ছিলেন।ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের গুম করা হয়েছে বলে দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের গুম বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার ৭৬ জনের একটি তালিকা দেয় বাংলাদেশ সরকারকে। তালিকায় নাম আছে ওয়ালীউল্লাহ ও মুকাদ্দাসেরও। সম্প্রতি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে গুম হওয়া অনেককেই গোপন বন্দিশালা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।তবে ওয়ালিউল্লাহ ও মুকাদ্দাসের কোনো সন্ধান এ
খনো মেলেনি।
