মোহাম্মদ মামুন শাহরিয়ার :
আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা মানুষ এবং জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন তারই ইবাদত করার জন্য। কিন্তু নফস ও শয়তানের ধোকায় আল্লাহকে ভুলে তার অবাধ্যতায় লিপ্ত হই। গুনাহ করতে করতে শান্তির ঠিকানা ছেড়ে চরম দুঃখের ঠিকানা পথে ছুটতে থাকি।এই গুনাহ থেকে মাগফেরাত নিয়ে জান্নাতে যাওয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালা একটি বিশেষ মাস মুসলমানদের জন্য দিয়েছেন। এটি হলো পবিত্র মাহে রমজান।
বসন্তকালে যেমন পত্র পল্লবে সজ্জিত হয় গাছপালা ঠিক তেমনি রমজান মাসে অল্প ইবাদতে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। অতীত গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। চিরস্থায়ী জান্নাতে সুসংবাদ পাওয়া যায়। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তই অনেক অনেক দামী। যাতে রয়েছে আল্লাহর রহমত ও বরকতের অগণিত ঝর্ণাধারা, ক্ষমা ও মাগফেরাতের অসংখ্য বাহানা। শুধুমাত্র বিষয়গুলো উপলব্ধি না করার কারণে এ সব কিছু থেকেই বঞ্চিত হই।
রমজান মাসে সবচেয়ে বড় আমলই হচ্ছে রোজা রাখা।রোজা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন – ” তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পায় রোজা রাখে। ” ( সূরা বাকারা -১৮৫)
রোজার উদ্দেশ্য হচ্ছে মুত্তাকী অর্থাৎ মানুষ আল্লাহ ভীরু হাওয়া। আল্লাহ তাআলা যা আদেশ করেছেন যথাযথ ভাবে পালন করা,আর যা নিষেধ করেছেন তা পরিহার করা। আর এই রোজার বিশেষ হেকমত হচ্ছে এটি নফসকে দুর্বল করে অর্থাৎ কুপ্রবৃত্তিকে দমন করে।
মুমিনের জন্য বসন্তকাল এই রোজার মাসের বহু ফজিলত।
১. এ মাসে কোরআন সহ সকল আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে। ( মুসনাদে আহমদ -১৬৯৮৪,ইবনে কাসির -১/৪৬১)
২. জান্নাতের সকল দরজা খুলে দেয়া হয়। ( বুখারী-৩২৭৭)
৩. জাহান্নামের সকল দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।( বুখারী-৩২৭৭)
৪. অভিশপ্ত শয়তানকে শিকলে আবদ্ধ রাখা হয়। ( বুখারী-৩২৭৭)
৫. রহমতো বরকতে দরজা সমূহ খুলে দেওয়া হয়। ( মুসলিম -২৪৯৬)
৬. ২৪ ঘন্টাই মুমিনের দোয়া কবুল হয়.।( তারগীব-১৪৯৩)
৭. মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। ( মিশকাত -১৯৬৫)
৮. নেক আমলের মূল্য অনেকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। মেশকাত হাদিস -১৯৬৫ তে বর্ণিত হয়েছে -‘ যে ব্যক্তি এ মাসে একটি নফল ইবাদত করল, সে যেন অন্য মাসের একটি ফরজ এবাদত করল। আর যে ব্যক্তি এ মাসে কোন ফরজ ইবাদত করল, সে যেন অন্য মাসের ৭০ টি ফরজ এবাদত করল।. রোজা জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢাল স্বরূপ। (বুখারী-১৯০৪)
১০. রোজা ও কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। ( মুসনাদে আহমদ -৬৬২৫)
১১. রোজা হচ্ছে শরীরের যাকাত কেননা রাসুল (সা:) ইবনে মাযাহ -১৭৪৫ এ এরশাদ করেন – প্রত্যেক বস্তুর যাকাত আছে, যাকাত হচ্ছে রোজা। রোজা হচ্ছে সবর ও ধৈর্যের অর্ধেক।
এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এরশাদ করেন – ” তিন ব্যক্তির দোয়া পুড়িয়ে দেওয়া হয় না ; ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া, ন্যায়পরায়ণ বাদশা, মজলুমের দোয়া। (সুনানে তিরমিযী-৩৫৯৮)
রমজান মাসে বেশি নেক আমল করার জন্য আল্লাহ তায়ালা সুযোগ করে দিয়েছেন।সেহরি, ইফতার, তারাবিহ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির আসগার, কান্নাকাটি করে দোয়া সবই যেন স্বাভাবিক সাওয়াব থেকেও ভরপুর। এ পুণ্যময় মাগফেরাতের মাসে যেন আল্লাহর সকল বান্দা বান্দিরা আল্লাহর দয়া এবং ক্ষমার দিকে অগ্রসর হয়, গুনাহ এবং পাপাচারে পদ পরিহার করে, সেজন্য তখন পথ উন্মোচন করে দেন।শেষ দশকে শবে কদর ও এতেকাফের মাধ্যমে পরিপূর্ণ মুত্তাকী হওয়া যায়।
তাই হে আমার প্রিয় মুসলমান ভাই ও বোনেরা! আসুন পবিত্র মাহে রমজানে আমরা সকলে নিজ নিজ সন্তান ও অধীনস্থদের নিয়ে আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত হই। রমজানের এই বসন্তকালকে কাজে লাগিয়ে জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে জান্নাতের বাগানের প্রার্থী হই।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের তৌফিক দান করুন।
আমিন
