৩২
ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিশু আছিয়ার ধর্ষণ এবং হত্যার প্রতিবাদ ও ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদী সমাবেশ ও আছিয়ার গায়েবানা জানাজা করেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে প্রতিবাদী সমাবেশ ও গায়েবানা জানাজা করেন শিক্ষার্থীরা।
এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি সমন্বয়ক এস এম সুইট, তানভির মাহমুদ মণ্ডল, গোলাম রাব্বানী প্রমুখ সমন্বয়ক পরিষদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবাদী সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, “ছোট্ট আছিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের ব্যথিত করেছে। ধর্ষণের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক কোন শাস্তির রেকর্ড না থাকাটাই আজ ধর্ষণের জন্য, আছিয়ার মৃত্যুর জন্য দায়ী। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি বাংলাদেশে আর কোনভাবেই চলতে দেওয়া যাবে না। ধর্ষকদের এমন কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কেও এই কাজ করার দুঃসাহস না দেখায়৷”
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইবির অন্যতম সহ-সমন্বয়ক গোলাম রাব্বানী বলেন, “মহান আল্লাহ যেন আছিয়ার গুনাহ মাফ করে তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। শিশু আছিয়ার মৃত্যুর জন্য দায়ী ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের কাছে আমাদের প্রশ্ন, আপনারা করছেন টা কি? আগের সরকারের আমলে নাহয় বিভিন্ন কায়দায় ধর্ষকদের বাঁচানো হতো কিন্তু আপনার কি করছেন? আপনারা ২ হাজার শহীদ ভাইবোনের রক্তের উপর দিয়ে ক্ষমতায় বসেছেন। মানুষ এখন ওই ৬ মাসের আইনের কথা শুনতে চায়না, মানুষ ধর্ষণের ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই ধর্ষকের শাস্তি চায়। যদি মানুষের সেন্টিমেন্ট বুঝতে না পারেন তাহলে গদি ছেড়ে দেন।”
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, “বিগত স্বৈরাচারী সরকারের ১৫ বছরের শাসন আমলে প্রায় ৫০ হাজারের ওপরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তৎকালীন সরকার তার কোনো বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি। আমরা দেখেছি কীভাবে তণুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। আমরা আরেকটি নাম ভুলে গিয়েছি, ঢাকার বসুন্ধরার যে মালিক সায়েম সোবহান আনভীর দ্বারা মুনিয়াকে ধর্ষণ। সেই আনভীরের বিচার যদি আমরা নিশ্চিত করতে পারতাম, যদি প্রতিবাদের ভাষা জারি রাখতে পারতাম, সরকারের যদি সদিচ্ছা থাকতো, তাহলে আছিয়ার মত বোনদের এরকম পরিণতি হত না।”
তিনি আরো বলেন, “আছিয়ার ধর্ষণের সাথে যারা অভিযুক্ত তাদের যতদিন না শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে, ততদিন আমরা মাঠ ছাড়ব না। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে আহ্বান জানাবো, সাত দিনের মধ্যে ঘটনার সাথে অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় আনবেন। আগস্টের আগে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ছিল সেই সংস্কৃতি থেকে যদি আমরা বের হতে না পারি, তাহলে আমাদের জুলাই স্প্রিট ব্যাহত হবে। আজকে আমাদের বোন আছিয়ার জন্য দাঁড়াতে হয়েছে কালকে আরেক বোনের জন্য দাঁড়াতে হবে; এভাবে আর চলতে পারে না। সরকার যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি গ্রহণ করতে পারে, তাহলে এই ধরনের কর্মকান্ড অনেকটাই কমিয়ে ফেলা সম্ভব।”
