ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদক*
এটি বর্তমান সময়ের অনেকেরই প্রশ্ন!
এর উত্তরে আমরা কয়েকটি কথা বলবো। মনোযোগ সহকারে পড়লে এবং বুঝার চেষ্টা করলে এর সমাধান এসে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
জুমার নামাজ এবং ঈদের নামাজের মাঝে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। যার কারণে জুমার নামাজ একই দিনে এবং একই বারে পড়া সম্ভব হলেও ঈদের নামাজ একই দিনে এবং একই বারে পড়া সম্ভব হয় না।
( এক) জুমার নামাজ বার কেন্দ্রিক। তাই তা সমগ্র পৃথিবীতে শুক্রবারে পড়া হয়। যেমন, আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন-
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا نُوۡدِیَ لِلصَّلٰوۃِ مِنۡ یَّوۡمِ الۡجُمُعَۃِ فَاسۡعَوۡا اِلٰی ذِکۡرِ اللّٰہِ وَ ذَرُوا الۡبَیۡعَ ؕ
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! জুমাআর দিনে যখন নামাযের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের জন্য ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। (সূরা জুমআ, আয়াত নং ৯)
পক্ষান্তরে ঈদের নামাজ চন্দ্র মাসের তারিখ কেন্দ্রিক। তাই সমগ্র পৃথিবীতে চন্দ্র মাসের তারিখের হিসেবে পড়া হয়।
(দুই) সমগ্র পৃথিবীর মানুষের হিসাবের সুবিধার্থে বিজ্ঞানীরা ১৮০° দ্রাঘিমাকে তারিখ রেখা সাব্যস্ত করে, বারের নাম এবং সৌর তারিখ পরিবর্তনের হিসাব ধরেছেন। অর্থাৎ সেখান থেকে পৃথিবীতে নতুন বার এবং সৌর হিসেবে নতুন তারিখের সূচনা হয়। তারপর তা পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ২৪ ঘন্টার মাথায় আবার ১৮০° দ্রাঘিমায় এসে পুনরায় নতুন বার এবং নতুন তারিখের গণনা শুরু হয়।
এই কারনে একই বারে এবং সৌর হিসাবে একই তারিখে সমগ্র পৃথিবীতে জুমার নামাজ সংঘটিত হয়ে থাকে।
পক্ষান্তরে চন্দ্র তারিখের জন্য কোন তারিখ রেখা নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না, যেহেতু চন্দ্র তারিখ চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। তাই যেখান থেকে চাঁদ দৃশ্যমান হয়, সেখান থেকেই চাঁদের তারিখ গণনা শুরু হয়।
আর ঈদের নামাজ যেহেতু চন্দ্র তারিখের সাথে সম্পৃক্ত তাই তা সৌর তারিখ এবং বারের হিসাব থেকে ভিন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাহলে বুঝা গেল, সৌর তারিখ এবং বারের সাথে ঈদের নামাজের কোন সম্পর্ক নেই।
(তিন) আর যদি আমরা চন্দ্র তারিখের সাথে বারের নামকেও নির্দিষ্ট করে দেই, তাহলে মানুষের জন্য হিসাব করা বড় কঠিন হয়ে যাবে।
তখন বলতে হবে আজকে ইংরেজি মাসের ২৪ তারিখ সোমবার এবং হিজরী মাসের ২৩ তারিখ রবিবার। একই দিন সোমবার এবং রবিবার হওয়া আবশ্যক হয়ে যাবে। যেমন একই দিনে ইংরেজি এবং হিজরির দুটি তারিখ বিদ্যমান থাকে। সেই সাথে যদি আবার বাংলা তারিখকে বারের সাথে সম্পৃক্ত করে দেওয়া হয়, তাহলে তিনটি তারিখ এবং তিনটি বার গণনা করতে হবে। তখন তা মানুষের জন্য অত্যন্ত জটিল ও কঠিন হয়ে পড়বে।
আর যেহেতু হিজরী তারিখ সংশ্লিষ্ট ইবাদতের সাথে বারের আবশ্যকীয়তা নেই, সেহেতু বারকে শুধুমাত্র সৌর তারিখের সাথে সম্পৃক্ত করে দেওয়াতে কোন অসুবিধা নেই।
সর্বশেষ কথা হচ্ছে- সৌর হিসাব এবং চন্দ্র হিসাব দুটি ভিন্ন জিনিস। দুটির সাথেই রয়েছে বেশ কিছু ইবাদতের সম্পর্ক। সুতরাং শরীয়ত যে সকল ইবাদতকে সৌর হিসাবের সাথে সম্পৃক্ত করে দিয়েছে, সেগুলোকে সৌর হিসাবের সাথেই রাখতে হবে।
আর যে সকল ইবাদতকে চন্দ্রের হিসাবের সাথে সম্পৃক্ত করে দিয়েছে, সেগুলোকে চন্দ্রের হিসাবের সাথেই রাখতে হবে।
চন্দ্রের হিসাবকে সৌর হিসাবের সাথে একাকার করে ফেললে, কখনোই সঠিক বিষয় বুঝে আসবে না এবং এ জাতীয় কথাবার্তা দ্বারা মানুষ বিভ্রান্ত হতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিকভাবে ইবাদত করার তৌফিক দান করেন, আমিন।
দোয়াপ্রার্থী–
জুবায়ের বিন আব্দুল কুদ্দুস
শিক্ষক, লালবাগ মাদ্রাসা ঢাকা
খতিব, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ ঢাকা খাদেম, দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ
