রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত জেনারেল পোস্ট অফিস (জিপিও) ভবন পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত উল্লেখ করে তা সচিবালয়ের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে- বিষয়টির প্রতিবাদ করেছেন টাঙ্গাইল ডাক বিভাগের সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। পাশাপাশি এই প্রস্তাব বাতিলেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সম্প্রতি টাঙ্গাইল ডাক বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ‘জিপিও ভবন পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত’ দাবি করে তা সচিবালয়ের এক্সটেনশন হিসেবে সচিবালয়ের মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্তি ও হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এ প্রস্তাবে উল্লিখিত তথ্যকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে টাঙ্গাইল ডাক বিভাগ জানিয়েছে, জিপিও কম্পাউন্ড সরকার কর্তৃক ঘোষিত একটি কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন (কেপিআই) ভূক্ত স্থাপনা। বর্তমানে, ডাক বিভাগের ২৪টি কার্যকরী অফিস এই কম্পাউন্ডের মধ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, প্রতিদিন হাজার হাজার নাগরিককে সেবা প্রদান করছে। এটি ডাক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরবিচ্ছিন্ন পরিষেবা প্রদানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। জিপিও কম্পাউন্ড কখনও পরিত্যক্ত হয়নি, যতদিন ডাক পরিষেবা বিদ্যমান থাকবে, ততদিন এটি কখনও পরিত্যক্ত হবে না। হবার সুযোগও নাই। ডাক বিভাগের মহাপরিচালকের নিজস্ব দপ্তর না থাকায় শেরেবাংলা নগর, আগারগাঁও, ঢাকা পিলার লেটার বক্সের আদলে নির্মিত “ডাক ভবন”-এ মহাপরিচালকের কার্যালয় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। অন্যান্য সকল কার্যকরী অফিস আগের মতোই জিপিও কম্পাউন্ড থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ডাক বিভাগের সাথে পরামর্শ না করেই এবং কোন প্রকার জনমত জরিপ ব্যতিরেকে জবরদস্তিমূলকভাবে এই ধরণের চিঠি জারি করা এবং ডাক বিভাগের মতামত ছাড়াই প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্থানান্তরিত ও অপদখল প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
ডাক বিভাগের মতামত ছাড়াই এ ধরনের চিঠি দেওয়া এবং তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে টাঙ্গাইল ডাক বিভাগ হতে আরো জানানো হয়, জিপিও ভবন শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি ডাক বিভাগের প্রায় ৪০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রাণের জায়গা, আমাদের গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই ভবন কেড়ে নেওয়ার যেকোনো উদ্যোগ দেশের ডাকসেবার ওপর চরম আঘাত ।
