সফিউর রহমান সফিক:
আজ২৮ জুলাই সোমবার সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলা কালিপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে এলাকার দুই দল সন্ত্রাসী অস্ত্রধারীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হয়েছেন গজারিয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী সুটার মান্নার(৪৫) নামক ব্যক্তি । এদিকে গজারিয়া প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ার নিম্ন অঞ্চল এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ,মাদক ব্যবসা , সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে লালু বাহিনীর সাথে শুটার আব্দুল মান্নান বাহিনীর মধ্যে সকালে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ শুরু হয় এই দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে শুটার মান্নান নামক এক সন্ত্রাসী নিহত হন । গজারিয়া থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ব্যবসা , চাঁদাবাজি , মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী স্যুটার মান্নান নিহত হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে আরো জানা গেছে গজারিয়া থানা এলাকার লালু-জুয়েল বাহিনীর লোকজন তাকে হত্যা করেছে বলে দাবি নিহতের স্ত্রী স্বজনদের।
সোমবার (২৮ জুলাই) সকালের দিকে গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের বড় কালীপুরা গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এই ঘটনা ঘটে।
শুটার মান্নান (৪৫) গজারিয়া উপজেলার ইমামুপর ইউনিয়নের জৈষ্ঠিতলা গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে। আহতরা হলেন- হৃদয় বাঘ (২৮),আতিকুর (৩০), হাসিব (৩৪),শ্যামল (৩০), নয়ন (২৫),হামীম (৩২)।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েজনের জানায়, সোমবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মেঘনা নদীর বড় কালীপুরা এলাকায় একটি স্পিডবোটকে দেখতে পান তারা। স্পিডবোটে ৬/৭ জন যুবক সশস্ত্র অবস্থায় নদীতে পাহাড়া দিচ্ছে এই ঘটনার কিছু সময় পরে স্যুটার মান্নান, হৃদয় বাঘ-সহ ৭/৮ জন ইঞ্জিন চালিত একটা ট্রলার নিয়ে নদীতে নামলে অন্য একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে থাকা ১৫/১৬জন পেছন থেকে তাদের ধাওয়া দেয়। তাদের সবার হাতে অস্ত্র, মাথায় হেলমেট, গায়ে জ্যাকেট ছিল। এই ঘটনার সময় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের শব্দ শুনতে পান তারা। কিছুক্ষণ পর গুলিবিদ্ধ মান্নানের মরদেহ ট্রলারের উপর পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী। আহতরা ট্রলার থেকে লাফিয়ে পানিতে পড়ে যায়। এসময় হামলাকারীরা ট্রলার ও স্পিডবোট নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চাঁদপুরের দিকে চলে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন বলেন কে কাকে গুলি করছে জানিনা তবে আমরা অনেকগুলো গুলির শব্দ পেয়েছি। পরবর্তীতে শুনতে পেলাম একজনকে গুলি করে হত্যা করে তার মরদেহ ট্রলারের উপর রেখে যাওয়া হয়েছে।
নিহত শুটার মান্নানের স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, গত কয়েকদিন আগে মান্নান তাকে বলেছিলো হোগলাকান্দির গ্রামের লালু, জুয়েল তাকে মেরে ফেলতে চায়। তারা তাকে হত্যা করতে পেশাদার অস্ত্রবাজ ভাড়া করেছে। আজ সকালে আমরা খবর পেলাম মান্নানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমি সিউর লালু, জুয়েল বাহিনী ও তার সহযোগীরা তাকে হত্যা করেছে।
গজারিয়া গজারিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ বলেন, নিহতের বুকে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে চাইনিজ রাইফেল দিয়ে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে শৃঙ্খলা বাহিনী একটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। গজারিয়া থানা ও রাজধানীর বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে সন্ত্রাসী শুটার মান্নানের বিরুদ্ধে । নৌ পুলিশ সূত্রে জানিয়েছেন এখনো মামলা দায়ের হয়নি মামলার দায়ের এর প্রক্রিয়া চলছে
