সফিকুল ইসলাম(পাটগ্রাম লালমনিরহাট প্রতিনিধি)
লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার ধবলসুতী সীমান্তে ভারতীয় ড্রোনের অনুপ্রবেশ ও বৈদ্যুতিক ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন নিয়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) নিয়মিতভাবে ড্রোন পাঠিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে ভিডিওচিত্র সংগ্রহ করছে এবং সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘন করে জিরো লাইনের মাত্র ৫০ গজের মধ্যে বৈদ্যুতিক ল্যাম্পপোস্ট বসিয়ে তীব্র আলো ফেলছে।
বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ধবলসুতী সীমান্তের ৮২৯ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারসংলগ্ন ফুলকা ডাবরি এলাকায় স্থানীয়রা আবারো একটি ভারতীয় ড্রোন বাংলাদেশের আকাশে উড়তে দেখেন। ড্রোনটি প্রায় ৩০ মিনিট ধরে বাংলাদেশের ভেতরে ঘুরে বেড়ায়। আশ্চর্যের বিষয়, এসময় টহলরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও কোনো ধরনের প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আল মারুফ বলেন, “প্রায় প্রতিদিন ড্রোন আসে। বিজিবি সামনে থাকলেও কিছু বলে না। ভারত সীমান্তে বৈদ্যুতিক খুঁটি বসিয়ে আমাদের ঘরের ভেতর আলো ফেলা হচ্ছে, এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এটা সরাসরি আমাদের দেশের সার্বভৌমত্বের উপর হস্তক্ষেপ।”
এছাড়াও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএসএফ জিরো লাইন অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে বৈদ্যুতিক ল্যাম্পপোস্ট বসিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনের লঙ্ঘন। এসব লাইট রাতভর জ্বলে থেকে স্থানীয়দের জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে ৬১ বিজিবির অধিনায়ককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিজিবির পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পাটগ্রাম উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরান হাবিব বলেন, “ভারতের এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সরকারের উচিত অবিলম্বে কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো এবং সীমান্তে এন্টি-ড্রোন ব্যবস্থা মোতায়েন করা।”
সীমান্তে বসবাসকারী এক যুবক বলেন, “প্রতিদিন ড্রোন আর আলো নিয়ে থাকতে হয়। সরকার ব্যবস্থা না নিলে আমরা নিজেরাই মাঠে নামবো।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিজিবি সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা প্রকাশ করা হয়নি। এতে করে সীমান্ত এলাকার জনগণের মাঝে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়ে চলেছে।
