৬২
নিজস্ব প্রতিবেদ:
বিশ্বব্যাপী আলোকচিত্র জগতে এক গর্বের মুহূর্ত! বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী নাফিজ ইসলামের অনবদ্য শিল্পকর্ম ‘Shadows of History’ এখন প্যারিসের বিশ্ববিখ্যাত লুভর মিউজিয়াম (Musée du Louvre)-এর স্থায়ী সংগ্রহে যুক্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গ্যালারিতে বাংলাদেশের মুখ

নাফিজ ইসলামের চিত্রভাষ্য ইতিহাসের ছায়া ও মানুষের জীবনধারার অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যকে ধারণ করে নির্মিত এই সিরিজটি শুধু একটি ছবি নয়, এটি সময় ও সাহসের দলিল।
বিশেষ করে যে দুটি আলোকচিত্র লুভর কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে, তার একটি ছবিতে দেখা যায়—একজন বৃদ্ধ মানুষ একটি গরুকে জলাশয় থেকে টেনে তুলছেন।
এই চিত্র শুধুমাত্র একটি দৃশ্য নয়, বরং বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনযাত্রার কষ্ট, করুণা, মানবিকতা ও বাস্তবতার এক জীবন্ত নিদর্শন।
শিল্পযাত্রার শুরু: ফরিদপুর থেকে বিশ্বমঞ্চে
নাফিজের জন্ম ফরিদপুর শহরে। এই শহরের কাদামাটিতেই তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মঞ্চ নাটকের প্রতি ছিল গভীর ঝোঁক।
তারই ধারাবাহিকতায় নাট্যগুরু মুন্সী মুহাম্মদ আলী রুমির হাত ধরে ‘বৈশাখী নাট্যগোষ্ঠী’-তে তাঁর মঞ্চ নাটকের শুরু। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা এখনও চলমান।
তখন থেকেই আলোকচিত্রের প্রতিও তাঁর ছিল গভীর আকর্ষণ, যা সময়ের সঙ্গে আরও সমৃদ্ধ হয়েছে।
নাফিজ ইসলাম ২০১৮ সালে ঢাকায় ফটো জার্নালিস্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি স্বনামধন্য পত্রিকায় কাজের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের হয়েও ফটোগ্রাফি করতেন।
তাঁর নিজেরও একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে—”শতফুল আলোকচিত্র”।
তাঁর লেন্সে ধরা পড়েছে হাজারো মুহূর্ত, যা কেবল ছবি নয়—বরং ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে।
‘Shadows of History’—শুধু ছবি নয়, ইতিহাসের প্রতিবিম্ব
এই সিরিজে নাফিজ ইসলাম সময়কে ফ্রেমে আবদ্ধ করেছেন, যেখানে প্রতিটি আলোকচিত্র যেন সমাজের নীরব ভাষ্য বলে।
লুভরের আধুনিক ফটোগ্রাফি বিভাগ যখন এই দুইটি আলোকচিত্রকে তাদের সংগ্রহে সংযুক্ত করে, তা বিশ্বমানের শিল্প স্বীকৃতির সমান।
লুভরের মতো একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান থেকে এই স্বীকৃতি পাওয়া মানে শুধু একজন শিল্পীর নয়, পুরো বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলনের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন।
শিল্প ও বাস্তবতার সংমিশ্রণ
নাফিজ বলেন—
“ছবির মতো বাস্তব ও মানবিক মুহূর্তগুলোও ঠিক সেভাবেই সংরক্ষিত হওয়া উচিত, যেমনটি লুভর মিউজিয়ামে শিল্পকর্ম হিসেবে প্রদর্শিত হয়। মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও সৌন্দর্যকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়াটাই আমার কাজ।”
সম্মান ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশা
এই অভাবনীয় অর্জন বিশ্ব সংস্কৃতি ও ইতিহাসে বাংলাদেশের সক্রিয় উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করে।
বিশ্বজুড়ে যেসব আলোকচিত্রশিল্পী ইতিহাসের ছায়া এবং মানবিক গল্পগুলোকে লেন্সের মাধ্যমে সংরক্ষণ করেন, তাদের জন্য নাফিজ ইসলাম এখন এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।
