নিজস্ব প্রতিবেদক,
ময়মনসিংহের একই পরিবারের ৯ ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর ৩ নং ওয়ার্ড ও জয়পুর ৪ নং ওয়ার্ড গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীদের দাবি, দোসর আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতোর পর রকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে আবু হানিফা, সেকান্দার বাদশা,আব্দুল রশিদ, হেলাল উদ্দিন, জালাল উদ্দিন, দুলাল মিয়া, সাইফুল ইসলাম, বিল্লাল মিয়া আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে যানাযায়। তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
গোলাম মোস্তফা নামের এক ভুক্তভোগী জানান, দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে তার নিজ বসতভিটায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। কিন্তু সম্প্রতি তার এই জমির দিকে নজর পরে ফুলবাড়িয়ার কুখ্যাত নয় ভাইয়ের, ৫ই আগষ্ট ২০২৪ এর স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন। আর এই সন্ত্রাসী ৯ ভাই নিজেদেরকে ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য করিম সরকারের লোক বলে দাবি করেন। এজন্যই থানা পুলিশকে তোয়াক্কা করেননা বলে জানান।
এ সময় তিনি আরও জানান গত ১২ সেপ্টেম্বর ফুলবাড়িয়া থানায় রকিবুল ইসলাম ভুক্তভোগী গোলাম মোস্তফা ও জাকারিয়া নামের দুজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে উক্ত থানার এস আই আশরাফুল সিদ্দিক, মুঠো ফোনে গোলাম মোস্তফা ও জাকারিয়াকে থানায় ডাকেন। কিন্তু অভিযোগকারী রকিবুল ইসলাম এবং তার ৮ ভাই সহ অন্য আরো সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে থানায় হাজির হয়। তখন সালিশের নামে ফুলবাড়িয়া থানার ভিতরে গোল ঘর নামে বৈঠকখানায় বসেন, এসআই আশরাফ সিদ্দিক অভিযোগের বিষয়ে উভয় পক্ষের কথা শুনবে বলে সালিশী শুরু করেন কিন্তু অভিযোগকারী রকিবুল ইসলাম শুরুতেই গোলাম মোস্তফা ও জাকারিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকে এরা দোসর আওয়ামী লীগের লোক পুলিশের সম্মুখে হেনস্তা শুরু করে বলে জানান, আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য বৈঠকে উপস্থিত থাকা জাকারিয়ার ভাতিজা ইউসুফ আলী কে ছাত্রলীগের তকমা লাগিয়ে বৈঠক চলাকালীন সময় থানার এক দারোগা এসে সেই থানার ওসির কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রুকোনুজ্জামান মবে বায়েস্ট না হয়ে ইউসুফ আলিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে কিন্তু পূর্বে আওয়ামী লীগ করতো এমন কোন তথ্য প্রাপ্ত না পেয়ে ইউসুফ আলীকে ছেড়ে দেয় বলে জানায়।
ইউসুফ আলী নামে অন্য এক ব্যক্তি বলেন, ওসি আমার কোন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় আমাকে ছেড়ে দেয়, আমাকে ছেড়ে দিলে আমি বাহিরে আসতেই আমাকে ৯ ভাই গ্রুপের সন্ত্রাসীরা পাকড়াও করে ফেলে। আর বলে তুই কি করে বাহিরে আসলি ওসি তোকে কিভাবে ছাড়লো তোকে আবারো থানায় লকাপ করাবো। এই ভয় ভীতি দেখিয়ে বলে বাঁচতে চাইলে এই মুহূর্তে আমাদেরকে এক লক্ষ টাকা দিবি। ইউসুফ আলী অতি কষ্টে ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করে তাদেরকে দেয় বলে জানায়।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুকোনুজ্জামানকে ইউসুফ আলির বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমাকে কয়েকজন লোক এসে আমাকে বলে ইউসুফ আলি থানার ভিতরে গোল ঘরে বসে সালিশি দরবারে উপস্থিত আছে তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য বলে এর পর আমি নিজেই তাকে আমার রুমে ডেকে আনি এবং বেপক জিজ্ঞাসাবাদ করি তার ইউনিয়ন ও গ্রামে খবর নিয়ে তার কোনো আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেই। তিনি আরও বলেন আমার দ্বারা কেহ হয়রানী শিকাড় হবেননা বলে জানান।
ওসির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে ইউসুফ আলি আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নন। এ ঘটনায় স্পষ্ট হয়, ওসি বিচক্ষণতার সথে দায়িত্ব পালন করায় প্রকৃত সত্য উদঘাটন হওয়ায় গ্রামের অসহায় পরিবারের সন্তান ইউসুফ আলী মিথ্যা মামলা থেকে রক্ষা পান।
ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য করিম সরকারের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন রকিবুল ইসলাম আমাদের বিএনপির একজন কর্মী, কিন্তু তার কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের দায়ভার আমি বা বিএনপি নিবে না। তাছাড়া তিনি আরও বলেন আমি খতিয়ে দেখব ঘটনার সত্যতা পেলে আমি নিজেই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবো। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে তিনি কখনোই প্রশ্রয় দিবেন না বলে জানান।
