ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ —
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA)-এর নতুন সংস্কার করা ভবনে দেখা দিয়েছে ফাটল। কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে করা এই অফিস সংস্কারের পরপরই ভবনের দেয়াল ও বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় উদ্বেগে পড়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং সাধারণ নাগরিকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভবনের একাধিক অংশে ছোট থেকে মাঝারি আকারের ফাটল দেখা যাচ্ছে, যা দিনে দিনে বিস্তৃত হচ্ছে। এমন একটি ভবনে এত অর্থ ব্যয়ে সংস্কার করার পর এমন দুর্বলতা প্রকৌশলগত ত্রুটি ও দায়িত্বহীনতা নির্দেশ করে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমরা নতুন অফিসে উঠেছি কিছুদিন হলো। কিন্তু কয়েকটি কক্ষে দেয়ালে ফাটল লক্ষ্য করা গেছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”
এদিকে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—
“ফাটল ধরা ভবনে যদি আজ হঠাৎ কিছু ঘটে, দায় কে নেবে?”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ার অর্থ হলো এর গঠনগত কাঠামোতে দুর্বলতা রয়েছে, যা সময়মতো মেরামত না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তারা পরামর্শ দিচ্ছেন, দ্রুত একজন অনুমোদিত স্থপতি ও গঠন প্রকৌশলীর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন করে ভবনটিকে ‘নিরাপদ’ ঘোষণা না করা পর্যন্ত সেখানে কার্যক্রম সীমিত রাখা উচিত।
ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতেও ঢাকায় বহু ভবন নির্মাণের পর এমন ফাটল দেখা গেছে, যা শেষ পর্যন্ত ভবন ধ্বংস বা বড় দুর্ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রানা প্লাজার ঘটনার কথা স্মরণ করে তারা জানান, কোনো ফাটলকেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।
সরকারি অর্থে নির্মিত ও সংস্কারকৃত একটি ভবনে এই ধরনের ফাটল দেখা দেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
সাধারণ মানুষের মন্তব্য:
একজন নাগরিক বলেন,
“প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে কাজ করতে আসে। আমাদের জীবন নিয়ে কি কেউ ভাবছে?”
এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে কতটা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কী পদক্ষেপ নেয়।
🔎 উল্লেখ্য: এই প্রতিবেদনটি সর্বসাধারণের নিরাপত্তা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। ভবন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
