মো. সেলিম হোসেন, গোপালপুর:
গোপালপুরে প্রতারক চক্রের মুরগি ফাঁদে কোটি টাকা খুইয়েছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। উপজেলার রামজীবনপুর, বাইশকাইল, পোড়াবাড়ী, উদ্যমপুর বর্ণী, বেলুয়া, নগদা শিমলাসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে এসব টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ‘লেয়ার মুরগি ফার্ম এন্ড হ্যাচারী’ নামক একটি ভূয়া সংস্থা।
জানা যায়, ওই সংস্থায় পাঁচশত টাকায় সদস্য হলেই মিলে হাইব্রিড জাতের ২০টি মুরগি ও ২১ মাস পর্যন্ত ফ্রি খাদ্য, ঔষধ এবং ভ্যাকসিন। এই মুরগি ৬০০টি পর্যন্ত ডিম দিবে। আর ১শ টাকা করে ১০ কিস্তিতে প্রতি সদস্যকে দেয়া হবে ১টি করে মুরগি পালনের দোতলা কাঠের ঘর। ১৩শ টাকা দিয়ে গ্রুপ লিডার হলেই প্রত্যেক মাসে বেতন পাওয়া যাবে ৫ হাজার টাকা এবং প্রতিটি মুরগি থেকে ১০টি ডিম কমিশন দেয়া হবে। লিডারকে ৫টি মুরগি প্রদান করা হবে। মুরগি মারা গেলে ১হাজার টাকা ভর্তুকি দেয়া হবে মুরগি প্রতি।

ভুক্তভোগীরা জানান, এমন মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে ওই সংস্থা। বগুরা সদর উপজেলার সাবগ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করে সংস্থার সদস্যদের কার্ড দেওয়া হয়েছিল। সেখানকার প্রোপ্রাইটর ছিলেন ফাতেমা তুজ-জান্নাত। সেসহ মাঠ কর্মী পর্যায়ের সবাই পলাতক। তাদের ব্যবহৃদ সেলফোনের নাম্বার বন্ধ।
রামজীবনপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের পাড়ায় ২৯জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে এই চক্র। সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখ সবাইকে মুরগি ও খাদ্য ডেলিভারি দেওয়ার কথা বলে ১৫ তারিখে চক্রটি নগদ টাকা নিয়ে পালিয়েছে। এখন ফোন রিসিভ করছে না।
বাইশকাইল গ্রামের ভ্যানচালক মহির উদ্দিন জানান, ২ জন লোক এসে বললো, ৩০ জনের গ্রুপ বানাতে পারলে আমাকে মাসিক ৫ হাজার বেতন দিবে। খাদ্যের ডিলার বানাবে এবং প্রতিটি মুরগি থেকে ১০টি করে ডিম দেবে। পরে আমাদের গ্রামের ৩২ জনকে সদস্য বানিয়ে দিয়েছে। বিনিময়ে আমাকে ৫টি মুরগি দিয়েছে। এখন তাদের খুঁজে পাচ্ছি না।
পোড়াবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামের গৃহিণী স্বপ্না বেগম বলেন, দুই জন লোক এসে লোভ দেখিয়ে ৩৬ জন মহিলার গ্রুপ বানিয়ে ৫০০ টাকা করে নিয়ে এখন পলাতক। তাদের কার্ডে দেয়া মধুপুরের ঠিকানায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
গোপালপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, থানায় এখনো কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ করেনি। স্বপ্রণোদিতভাবে আমি চেষ্টা করব এই প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় আনার।
