৭
মাসুদ রেজা শিশির
নুরজাহান বয়স (৭৫) বছর শারিরিক ভাবে চরম অসুস্থ। এ বছরের শুরুর দিকে স্টক করেন তিনি, প্রথমে পাংশা পরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। হাসপাতাল থেকে মা নুরজাহানকে কৌশালে মেঝো ছেলে আব্দুর রশিদ মা-নুরজাহানকে পাংশা শহরের নিমতলা এলাকায় নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসেন।
মামাবাড়ি থেকে পাওয়া মায়ের নামে থাকা ৯৯. ৯৮ শতাংশ জমি নিজ নামে ৫০ লক্ষ্য টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছেন বলে এ খানা দলিল রেজিঃ করেছেন তিনি। যার দলিল নং- ২৫৩৮ তারিখ, ২৫/০৩ /২৫ ইং।
এ বিষয়ে কালুখালী উপজেলার শাওরাইল ইউনিয়নের উত্তর নগর বাথান গ্রামে নিজ বাড়িতে কথা বলেন নুরজাহান। তিনি বলেন আমার থেকে ছেলে রশিদ জমি রেজিঃ করে নিয়ে আমাকে খাবার থাকবার না দিয়ে ফেলে রেখেছেন।
আমি অসুস্থ ছিলাম রশিদের বাড়িতে সেখান থেকে জমি লেখে নিয়েছে আমি এর বিচার চাই। আমি এ জমি আমার সকল ছেলে মেয়েদের মধ্যে সমান ভাবে দিতে চাই।
আব্দুর রশিদের আপন ভাই- হাবিব বলেন আমাকে বিদেশ নিয়েছিল আমি যত টাকা ইনকাম করছি, সব টাকা আমার ভাই রশিদ নিয়েছে। যেসব টাকা দিয়ে নিজের নামে পাংশাতে ৫ তলা বাড়ী করেছে, ওই জমি ও ভবনে আমার অংশ দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু আমাকে ফাকি দিয়েছে।
একই সাথে আমার মায়ের নামের এক একর জমি সে কৌশলে লিখে নিয়েছে, আমাদের পথে বসবার উপক্রম হয়েছে।
এখন আমি চরম অসহায় আমার ঘর আগুনে পুড়ে গেছে খাকার ব্যবস্থাও নেই। আমার ভাই রশিদ আমাদের ফাকি দিয়েছে। এ ঘটনায় সঠিক বিচার কামনা করছি।
স্থানীয়রা বলেন বিষয়টি জানবার পর স্থানীয় ভাবে বিষয়টা মিমাংশার চেষ্টা করি কিন্তু রশিদ উপস্থিত হয়নি। রশীদ কোন সমজতায় আসেনি এ ঘটনায় এলাকাবাসিও তার বিচার কামনা করছেন।
রশিদের বোন হাসি বলেন- আমার ভাই আমাদের ফাকি দিয়ে মায়ের নামে থাকা ১০০ শতাংশ জমি নিজের নামে লিখে নিয়ে আমাদের ফাকি দিয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে চাই।
মায়ের সাথে একই অভিযোগ করেন অরপ ভাই শহিদুল ইসলাম, হাবিব হোসেন, বোন রাশিদা খাতুন, হাসি খাতুন, সাবিনা ইয়াসমিন, কুলসুম, মৃত বোন আসমা বেগমের ছেলে। তারা সকলেই এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার কামনা করেন।
এ ঘটনায় ওই এলাকায় বিষয়টি -নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নুরজাহানের বাকি ৭ ছেলে মেয়ে ও তাদের সন্তানরা আইনের আশ্রায় নিবেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রশিদের সাথে কথা বলবার জন্য পাংশা শহরের রশিদের বাসায় গিয়ে কথা হলে তিনি মায়ের কাছ থেকে জমি লিখে নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন এ সংক্রান্ত বিষয়ে নিউজ না করার কথা বলে বলেন আমার ভাইদের সাথে বিষয় টা মিমাংসা করে নিব। এ সময় তিনি সাংবাদিককে উৎকোচ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
