মোঃ পনির
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর সার্কেল ভূমি অফিসে সেবার দিক থেকে শুরু হয়েছে জনবান্ধব প্রশাসনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দেড় মাসের মাথায়ই সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. ফাইরুজ তাসনিম কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে ভূমি অফিসকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত ঘোষণা করেছেন।
২০২৫ সালের ২১ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নাগরিকদের হয়রানি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনা শুরু করেন। তাঁর নেতৃত্বে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং প্রকৃত মালিকদের হাতে তাদের ন্যায্য সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
ডা. তাসনিম বলেন, “ভূমি অফিস জনগণের। তাই জনগণের কষ্ট কমানো এবং সেবা সহজলভ্য করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। দালাল বা অসৎ কর্মচারীদের জায়গা এখানে নেই। আমি চাই প্রত্যেক প্রকৃত ভূমি মালিক যেন সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়ে সরাসরি সেবা পান—কোনো হয়রানি ছাড়া।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এতে কারো না কারো স্বার্থে আঘাত লাগবে, এটা অনিবার্য, কারণ যেখানে অন্যায় আছে সেখানে প্রতিরোধও থাকবে। আমার একমাত্র উদ্দেশ্য জনগণের সেবা করা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা নয়।”আমার দোষ থাকলে লিখবেন,আমার আপত্তি থাকবে না। কিন্ত আমার বিরুদ্ধে ফেইক নিউজ দিয়ে আমাকে থামিয়ে রাখা সম্ভব না।
সাম্প্রতিক সময়ে সহকারি কমিশনার ভূমির এই কঠোর অবস্থান ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে কাজ করা কিছু অসৎ চক্রকে নিদারুণ অস্বস্তিতে ফেলেছে। তারা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ভূমি অফিস এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও দালালমুক্ত।
ভূমি অফিসের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,আগে এখানে দালালচক্র ও কিছু অসৎ কর্মচারীর সিন্ডিকেট কাজ করতো। নতুন এসিল্যান্ড স্যার এসে তাদের সিন্ডিকেটকে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে দিয়েছেন। এখন অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বেড়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধা বলেন,
আগে সাধারণ মানুষ ভূমি অফিসে যেতে ভয় পেত। এখন সবাই সরাসরি এসি ল্যান্ড ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করে তাদের সমস্যা জানাতে পারে যার ফলে ভূমি সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে, জনগণের আস্থা ফিরেছে।
সাদীপুর ইউনিয়নের কৃষক মোতালিব হোসেন বলেন,
“আগে দালাল ছাড়া কাজ করা যেত না। এখন নিজের কাগজ নিয়ে সরাসরি অফিসে গেলেই নামজারি করা যায়। এটা আমাদের মতো কৃষকদের জন্য অনেক বড় শান্তি ও স্বস্তির বিষয়। ডা. ফাইরুজ তাসনিম শুধু ভূমি সেবায় নয়, উক্ত উপজেলায় মাদকবিরোধী প্রচারণাতেও ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ গ্রহণ করেছেন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় তিনি মাদক, নিরাপদ সড়ক আইন ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন।
তাঁর প্রচেষ্টায় ভূমি সেবায় গতি এসেছে, সেবা প্রার্থীদের ভোগান্তিও কমতে শুরু করেছে।
তিনি আরো বলেন অন্যায়ের কাছে যে কখনো মাথা নত করে না, আমরা এমন কর্মকর্তাই চাই।
স্থানীয়রা মনে করছেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. ফাইরুজ তাসনিমের এই সাহসী উদ্যোগ কাচঁপুর সার্কেলের ভূমি প্রশাসনে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে।
