স্টাফ রিপোর্টার :
৫ ই আগস্ট ছাত্র জনতার হত্যাকারীদের সাথে মিশে ছাত্রদের উপর গুলিয়ে চালিয়েছিল এই কুলাঙ্গার।
রাজধানী উত্তরার প্রতারক যুবলীগের সোহাগ জোয়ার্দার এর আসল রহস্য উম্মোচন করার প্রথম পর্ব-চুয়াডাংগা এলাকায় একসময়ের গরুর রাখাল সোহাগ সরদার, বর্তমানে নিজেকে সোহাগ জোয়াদ্দার পরিচয়ে তুলে ধরছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে। তাদের দাবি, নানা প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছেন অবৈধভাবে সম্পদ ও ক্ষমতার নেটওয়ার্ক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোহাগের পারিবারিক পরিচয় ছিল সাধারণ শ্রমজীবী পরিবার। তার বাবা মন্নান সরদার এলাকায় “মাটি কাটা সরদার” নামে পরিচিত ছিলেন। গরু চরানো থেকে শুরু করা সোহাগ ঢাকায় এসে দ্রুত আর্থিক উত্থান ঘটান—যা নিয়ে বহু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এলাকাবাসীর মাঝে।
অবৈধ গ্যাস লাইন ও দালালি করে সম্পদ গড়ার অভিযোগ
ভুক্তভোগীসহ একাধিক সূত্র বলেন, সোহাগ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ, দালালি ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ও আদালতে মামলা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। উত্তরা, আশুলিয়া ও গ্রামে তার একাধিক বাড়ি ও সম্পত্তি রয়েছে বলে দাবিও করেন স্থানীয়রা।
বহুবিবাহ, প্রতারণা ও ব্যক্তিগত জীবনে অনিয়মের অভিযোগ
স্থানীয়দের দাবি, সোহাগ সরদার তার ব্যক্তিগত জীবনেও বারবার প্রতারণামূলক আচরণ করেছেন। প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে, পরে তৃতীয় ও চতুর্থ বিয়ে—এসব নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।
রাজনীতি ও সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার
অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঢাকার ৫২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের “যুগ্ম সম্পাদক” পরিচয় ব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত ও ভয় দেখান। একইসঙ্গে একটি জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইন গণমাধ্যমের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল ও টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনাও স্থানীয়রা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
“স্কুলে যায়নি—সাংবাদিক হলো কীভাবে?” জনমনে প্রশ্ন
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোহাগ কখনো নিয়মিত স্কুলে যাননি। তার এমন পটভূমির পরও কীভাবে সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র পেলেন—এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।
গা-ঢাকা থেকে ফের প্রকাশ্যে সক্রিয়
৫ আগস্টের ঘটনার পর তিনি কিছুদিন আড়ালে ছিলেন বলে অভিযোগকারীরা জানান। পরে আবারও প্রভাবশালী পরিচয় নিয়ে উত্তরাসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি বহর নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ
একজন ভুক্তভোগী জানান,
“তার প্রতারণা, ভয়-ভীতি ও ব্ল্যাকমেইলের কারণে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের কেউই রেহাই পাচ্ছি না।”
অভিযুক্তের বক্তব্য জানা যায়নি
এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সোহাগ সরদারের বক্তব্য পাওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
