অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টৈংগারচর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের টেংগারচর গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিম পিতা জোহর আলী কারী ৮ জন ওয়ারিশের মধ্যে একজন বাদ দিয়ে ৭ জনের নামে একটি ভুয়া ওয়ারিশ সনদ টেংগারচর ইউপির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান ফরাজী প্রদান করেন।
অভিযোগকারী আব্দুল মতিন, (পিতা মৃত আব্দুল হাকিম) তাদের অভিযোগে উল্লেখ করেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমাকে ০৮-১০-২০২৪ স্মারক নং টেং-ইউপি/সনদ নং ৫৯,২৪,৮৪,০৩,২০২৪/১০-০২৫ ওয়ারিশ সনদ দেওয়ায় বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের বাবা আব্দুল হাকিম মারা যাওয়ার সময় দুই পুত্র, পাচ কন্যা, ও স্ত্রী রেখে যান। ইউপি চেয়ারম্যান (আমাকে) এক’জন ওয়ারিশকে বাদ দিয়ে গত ৮ অক্টোবর ২০২৪ ওয়ারিশ সনদপত্রটি প্রদান করেন। তার রেখে যাওয়া সমস্ত স্থায়ী, অস্থায়ী সম্পত্তি আমার ছোট ভাই রুহুল আমিনের পুত্র আরিফ হোসেন ও বোনেরা নামজারি করে জোরপূর্বক ভোগদখল করছে।
ইউপি চেয়ারম্যান ও ৩ নম্বর ওর্য়াড মেম্বারের যৌথ স্বাক্ষরে আমাকে বাদ দিয়ে বড় অঙ্কের উৎকোচ বাণিজ্যের বিনিময়ে একটি ভুয়া সনদ আমার মা, এক ভাই ও পাচ বোনকে প্রদান করে।
আমরা ওয়ারিশ সনদের জন্য চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে অনেক ঘুরাঘুরি করলেও আমাদেরকে কোনো ওয়ারিশ সনদ দেয়নি। তিনি আরও বলেন, আপনাকে আমরা কোন ওয়ারিশ সনদ দিতে পারব না।
এ ব্যাপারে আইনজীবী নাহিদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, মৃত ব্যক্তির যতজন সন্তান আছে ওয়ারিশ সনদে সকলের নাম আসবে। অন্যথায় ওয়ারিশ সনদ থেকে বাদ দেওয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক কাজ। ভুক্তভোগী ওয়ারিশরা আদালতে মামলা করতে পারবেন।
টেঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল ইসলাম আরমান আব্দুল হাকিমের পুত্র আব্দুল মতিন আমার কাছে অনেকবার এসেছে তার ডাক নাম মতি বলে আমি তাকে ওয়ারিশ সনদ দেইনি। আমার ওয়ার্ডের লোক এসে সাত জনের নাম দিয়ে ওয়ারিশ সনদ চাইছে, তারা যে ওয়ারিশদার ৮ জন আছে তা আমার জানা নেই।
টেংগারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল হাসান ফরাজী বলেন, সকল ওয়ার্ড মেম্বাররা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিজ নিজ দায়িত্বে ওয়ারিশ সনদপত্রের আবেদন নিয়ে তদন্ত করেন। আমার ইউনিয়নের কোনো ওয়ার্ডে যেয়ে যাচাই বাছাই করা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না বলে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আমি ওয়ারিশ সনদ প্রদান করি।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, সঠিক প্রক্রিয়ায় ওয়ারিশ সনদ না দেওয়ার কারণে টেংগাচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান ফরাজী ও ৩ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম আরমানের বিরুদ্ধে আমার দপ্তরে একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা সঠিকভাবে ওয়ারিশ সনদ না পেলে উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী ওয়ারিশগণ তাদের প্রাপ্যতা থেকে বঞ্চিত হয়। আমি এই অভিযোগটি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। সঠিক তদন্ত করার জন্য। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
