নিজস্ব প্রতিবেদক :
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের তদন্ত কার্যক্রম মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।
এর আগে রংপুর গণপূর্ত জোনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হলেও সেখানে ভুক্তভোগী কিংবা সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিকদের ডাকা হয়নি। বরং নির্বাহী প্রকৌশলীদের নিয়ে ঘরোয়া সভার মাধ্যমেই তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর গণপূর্ত জোনে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভাগের আটটি জেলার বড় বড় প্রকল্পের টেন্ডার নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করেন আবুল খায়ের। একাধিক টেন্ডার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে ভুল ও অসত্য তথ্যের মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ডিজিটাল টেন্ডার ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সরকারি অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। আবুল খায়েরের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অনিয়মের মাধ্যমে অনেক অসাধু কর্মকর্তা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, রংপুর গণপূর্ত জোনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থাকাকালীন সময়ে তার আস্থাভাজন ঠিকাদারদের বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে পাহারা দিতে দেখা যায়। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের একাধিকবার রংপুর গণপূর্ত অফিসের ভেতরে ও বাইরে টহল দিতে দেখা গেছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা রোববার রংপুর সফরে এসে আট জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীদের নিয়ে একটি সভার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
নিয়ম অনুযায়ী সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ভুক্তভোগী ও সংবাদ প্রকাশকারী গণমাধ্যমকর্মীদের লিখিতভাবে ডেকে বক্তব্য নেওয়ার কথা থাকলেও এই তদন্তে তা অনুসরণ করা হয়নি। শুধুমাত্র অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই তদন্ত শেষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
“আমরা এভাবে স্টেটমেন্ট নেই না। আমরা শুধু অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করি।”
তদন্ত চলাকালে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের শক্তি প্রদর্শনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,
“আমি এ রকম কিছু দেখিনি।”
এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান,
“সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংবাদ প্রকাশকারী গণমাধ্যমকর্মী ও ভুক্তভোগীদের জানানো উচিত ছিল। এটি গণপূর্তের অভ্যন্তরীণ তদন্ত হলেও বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখবো এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবো।”
এদিকে, ঢাকা গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়েরের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সরাসরি সাক্ষাৎ এবং মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
চলবে….
