আব্দুল গফুর কক্সবাজার
কক্সবাজারে জনসমুদ্রে জামায়াত আমির
‘দেশ গড়তে প্রয়োজন সৎ ও ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব’—ডা. শফিকুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক | কক্সবাজার
কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, বৈষম্য ও অবিচারের বোঝা বহন করছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে সৎ, যোগ্য ও ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। সোমবার কক্সবাজারে দিনব্যাপী নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আয়োজিত একাধিক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। দুপুর গড়তেই কক্সবাজার শহরের বাহার ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চত্বর প্রধান সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। বিপুল জনসমাগমে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা ক্ষমতার লড়াইয়ে নয়, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে মাঠে নেমেছি। জনগণ যদি সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়, তাহলে একটি শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।” তিনি দেশবাসীকে বিভেদ ও হানাহানি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, আইনের শাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং যুবসমাজকে নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি আরও বলেন ১১ দল ক্ষমতায় গেলে কক্সবাজারকে সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের চেয়েও উন্নত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান।তিনি বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালীকে স্মার্ট ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তোলা হবে।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের মহেশখালীতে নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।বস্তাপচা রাজনীতির পরিবর্তনই মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে আমিরে জামায়াত বলেন,”পচে যাওয়া নেতৃত্ব দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয়।এতদিন যারা নেতৃত্বে ছিল তারা জনগণের হক মেরে লুটেপুটে খেয়েছে। আগামীতে আর এমন হবে না।জনগণের টাকা জনগণের উন্নয়নে ব্যয় হবে”জাতিকে বিভক্ত নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এ রাজনীতিক বলেন,আগামী ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশ পাল্টে যাবে, নতুন বাংলাদেশের উদয় হবে।ইনসাফের ভিত্তিতে বাংলাদেশে উন্নয়ন হবে। পিছিয়ে থাকা অঞ্চলকে আগে উন্নয়নের কাতারে নিয়ে আসা হবে”সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বলেন, কক্সবাজারসহ সারাদেশে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে মানুষ পরিবর্তন চায়। আগামী দিনে গণসংযোগ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে বলেও তারা জানান।
জনসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুরো কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।কক্সবাজার সফরকালে জামায়াত আমির স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করেন এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দিকনির্দেশনা দেন।
