৪৯
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: শিক্ষা খাতে তথ্যপ্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে BANBEIS পরিচালিত “UITRCE-II (Upazila ICT Training and Resource Center for Education)” প্রকল্পের আওতায় গজারিয়া উপজেলায় নির্মিত আইসিটি ভবনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোটি টাকার এ অবকাঠামো প্রকল্পে ফাউন্ডেশনের পাইলিংয়ে ফাটল ও ভাঙন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক কাজের অভিযোগে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার ১৬০টি উপজেলায় উপজেলা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে চারতলা ভিত্তিসহ দুইতলা বিশিষ্ট আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার নির্মাণের কথা রয়েছে। প্রতিটি ভবনের আয়তন প্রায় ৪১০ বর্গমিটার। এসব কেন্দ্রে আইসিটি প্রশিক্ষণ, স্থানীয় EMIS ডেটা সেন্টার স্থাপন, ই-লার্নিং উপকরণ প্রস্তুত এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা।
কিন্তু গজারিয়ায় নির্মিত ভবনের বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভবন নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ফাউন্ডেশনের পাইলিংয়ের অংশবিশেষে ফাটল ও ভাঙন দেখা দেয়। বারান্দার প্লাস্টার খসে পড়ছে, দেয়ালে চিড় ধরেছে, নিম্নমানের রঙ ব্যবহারের কারণে পেন্টিং দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দরজা-জানালা, বেসিনসহ বিভিন্ন স্যানিটারি সামগ্রীও নিম্নমানের বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া বৈদ্যুতিক সংযোগে নিরাপত্তা মান বজায় রাখা হয়নি বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কোথাও কোথাও তারের সংযোগ এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “প্রকল্পটি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট হওয়ায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ বিষয়ে অধিক অবগত থাকার কথা।”
অন্যদিকে, ব্যানবেইসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সুপারভাইজার হিসেবে গজারিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাকির হোসেন-এর নাম দৃশ্যমান থাকলেও তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত নন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকেই প্রথম জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে পূর্বে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
গজারিয়া উপজেলা এলজিইডির কর্তৃপক্ষ বলেন, “প্রকল্পটি সম্পূর্ণ টার্ন-কি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন হয়েছে। কোথাও নির্মাণগত ত্রুটি থাকলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি দরজা-জানালা ও স্যানিটারি সামগ্রী নিম্নমানের হওয়ার অভিযোগের কথাও স্বীকার করেন।
শিক্ষা খাতে আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত কারিগরি তদন্ত, মান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুনঃমূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য থাকলেও, গজারিয়ায় UITRCE-II ভবনের বর্তমান অবস্থা সেই লক্ষ্য অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও প্রকল্পের টেকসইতা নিয়ে জনমনে আস্থা সংকট আরও বাড়তে পারে।
×
বিস্তারিত কমেন্টে…
