হাফিজুর রহমান:
রাজধানীর উপকণ্ঠে সাইনবোর্ড নিউ টাউন মসজিদ এলাকায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই সেখানে ১২ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় গত ১ মার্চ এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাও ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা মানিক (পিতা: রহিম মিয়া) গত ১ মার্চ নির্মাণাধীন ভবনের পঞ্চম তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে পোস্টমর্টেম ছাড়াই প্রায় দুই লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আপস-মীমাংসা করে দ্রুত দাফন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আকাশ বলেন, “এই ভবনের কোনো অনুমোদন নেই বলে আমরা শুনেছি। শ্রমিকদের জন্য কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
জানা গেছে, ভবনটি নির্মাণ করছে রজনীগন্ধা ডেভেলপার নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, “আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রত্যয়ন নিয়ে কাজ করছি।” তবে তিনি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে কোনো অনুমোদন নেই বলেও স্বীকার করেন।
অন্যদিকে রাজউকের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন মানুষের জীবনের মূল্য কি মাত্র কয়েক লাখ টাকা? অনুমোদন ছাড়া এভাবে ভবন নির্মাণ করা আইনত অপরাধ।”
এদিকে মৃত শ্রমিক মানিকের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবন নির্মাণের বিষয়ে তারা রজনীগন্ধা ডেভেলপার কোম্পানির মালিক হুমায়ুন কবির ও জমির মালিক এর সাথে দফা দফা হয়েছে।
এ বিষয়ে জমির মালিকের ছেলে জাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত সব বিষয় ডেভেলপার কোম্পানিই জানে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হলে কোম্পানির মালিকের সঙ্গেই কথা বলতে হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, রাজউকের অনুমোদন ছাড়া কীভাবে একটি ডেভেলপার কোম্পানি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করছে? ভবনটির কোনো সয়েল টেস্ট (মাটি পরীক্ষা) করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা। এছাড়া নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করা এবং শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।
