ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদন: বাংলাদেশ রেলওয়ে-এর চট্টগ্রাম নতুন স্টেশন এলাকায় অবস্থিত দুটি পার্কিং ইয়ার্ড ঘিরে গুরুতর অনিয়ম ও অবৈধ দখলের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৭০ হাজার ও ৪০ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই দুইটি পার্কিং স্পেস দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি শাহ আলম ও তার সহযোগী বাবর আলী পার্কিং দুটি লিজ নেন। তবে লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও রেলওয়ের নীতিমালা লঙ্ঘন করে মামলা জটিলতার সুযোগ নিয়ে তারা এখনো পার্কিং দুটির দখল ধরে রেখেছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের তিন কর্মকর্তা নিয়মবহির্ভূতভাবে মাসোহারা গ্রহণ করে এই অবৈধ দখলকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। মামলাধীন অবস্থাতেও শাহ আলমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান “এস এ কর্পোরেশন” থেকে খাজনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সাবেক পাহাড়তলী (পূর্বাঞ্চল) চট্টগ্রামের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা দীপঙ্কর তঞ্চঙ্গ্যা এবং সাবেক আমীন আব্দুস সালামের নাম উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চাইলে এই পার্কিং থেকে সরাসরি রাজস্ব আদায় করতে পারে। কিন্তু তা না করে ব্যক্তিগত স্বার্থে রাজস্ব বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে রাষ্ট্রীয় খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে, পার্কিং দুটি বৈধভাবে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। এর মধ্যে “মেসার্স রাব্বি ইঞ্জিনিয়ারিং”-এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলী বাদল বলেন, নিয়ম মেনে বরাদ্দ দিলে রেলওয়ের রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, “রেলের টাকা ড্রেন হয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (সিইও), পাহাড়তলী বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং আইন কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই অনিয়ম চলছে, যার ফলে বিপুল অঙ্কের অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে না গিয়ে ব্যক্তির পকেটে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে রেলওয়ের রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
