হাফিজুর রহমান:
কৃষি অধিদপ্তরের একটি সংবেদনশীল শাখায় দায়িত্ব পালনকারী এক উচ্চমান সহকারীর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাজধানীতে কোটি টাকার ফ্ল্যাট, একাধিক সম্পত্তির অভিযোগ
সরকারি চাকরির গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতার সঙ্গে সম্পদের পরিমাণের অসামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে—উক্ত কর্মকর্তা রাজধানীর ব্যস্ত রাজাবাজার–সংলগ্ন ১০/ই এলাকায় একটি ১০ তলা ভবনের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে আরও একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
স্ত্রী সহ নিজের নামে কীটনাশক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স: স্বার্থের সংঘাত
অভিযোগ উঠেছে, কৃষি দপ্তরের একই শাখায় কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি তার স্ত্রী ও তার নামে কীটনাশক ব্যবসার লাইসেন্স সংগ্রহ করেন এবং সেটির কার্যক্রম নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতেন। দপ্তরের ভেতরের কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, এটি সরকারি চাকরি বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন এবং স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে।
জেলায় কোটি টাকার প্লট ও গুদামঘর
উপকূলীয় একটি জেলার নিজ গ্রামে বেলতলী ঘাট স্কুলের সাথে তার নামে প্রায় ১০ কাঠা জমি, একটি বৃহৎ গুদামঘর এবং বিশাল প্লটের মালিকানা রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ভূমি অফিসের সূত্র মতে, এসব সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা হলেও তার আয়-ব্যয়ের বিবরণীতে এগুলোর উল্লেখ নেই।
পণ্যের সনদ প্রদান নিয়ে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ
দপ্তরের সংবেদনশীল দায়িত্বগুলোর মধ্যে একটি হলো কীটনাশক, সার ও মশার কয়েলসহ বিভিন্ন পণ্যের পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদান। ওই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন এই দায়িত্বে থাকাকালে রিপোর্টের বিনিময়ে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছে, নিয়মিত আর্থিক সুবিধা ছাড়া রিপোর্ট বা ছাড়পত্র পাওয়া কঠিন ছিল। এরই মধ্যে কীটনাশক শাখা থেকে অন্য একটি শাখায় স্থানান্তর করা হয়েছে দুর্নীতিক অভিযোগে। এমনটি তথ্য পাওয়া যায়।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার
অভিযোগ রয়েছে—এক সময়কার প্রভাবশালী এক সাবেক সচিবের পরিচয় ব্যবহার করে তিনি শাখার বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করতেন। একই সঙ্গে নিজ এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ও কাজে লাগিয়ে তিনি দপ্তরের সিদ্ধান্তে অনৈতিক হস্তক্ষেপ করতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ
এই বিষয়ে জানতে তার সরকারি ও ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পাঠানো বার্তারও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার তদন্ত দাবি
দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সুশাসনবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন—এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা সম্ভব নয়। তাদের মতে, সরকারি পদে থেকে কোনো কর্মকর্তা যদি পরিবারের নামে ব্যবসা পরিচালনা, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ঘুষ গ্রহণে জড়িত থাকেন—তবে তা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, জনস্বার্থের জন্যও হুমকিস্বরূপ।
প্রথম পর্ব চলবে,,,,,
