ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদক
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতাধীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হযরত আলী আবির–এর বিরুদ্ধে স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন মহল এসব অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবির কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা ত্রাণ অফিসে একটি প্রকল্পের অধীনে অস্থায়ীভাবে যোগদান করেন। রাজনৈতিক প্রভাবের সহায়তায় তিনি দ্রুত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কিছু মহলের দাবি, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ ও নানা অপকর্মের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন—যা একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর স্বাভাবিক সামর্থ্যের বাইরে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুরের মতলব উত্তর, কুমিল্লার দাউদকান্দি ও আশপাশের এলাকায় আবিরের নামে–বেনামে জমি, ফ্ল্যাট, দোকান, গাড়ি এবং ব্যাংক হিসাবসহ উল্লেখযোগ্য সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের পরিমাণ প্রায় শতকোটি টাকা হতে পারে বলে অভিযোগকারীরা ধারণা করছেন। তবে এসব তথ্যের কোনোটিই এখনো সরকারি অনুসন্ধানে যাচাই-বাছাই করা হয়নি।
এদিকে সম্প্রতি ঘুষ ও অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিগত সময়ে কিছু অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো তদন্তাধীন।”
এই বিষয়ে জানতে হযরত আলী আবিরের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো সম্পর্কে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে স্থানীয় নাগরিকরা জানান, দীর্ঘদিন তিনি আর্থিকভাবে অত্যন্ত অসচ্ছল ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ স্বল্প সময়ের মধ্যে তার জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায়—যা স্বাভাবিক নয় বলে তাদের মতামত।
এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)–এর কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
সরকারি অর্থ এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সঠিক তদন্তই পারে বিষয়টির প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে—মন্তব্য সংশ্লিষ্ট মহলের।
