ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদক :
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ, অনিয়ম ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ কর্মকর্তাদের জিম্মি দশা, ফাইল আটকে টাকা আদায় এবং নানামুখী হয়রানির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত—এমন অভিযোগে মুখর স্থানীয়রা।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশে গড়ে ওঠা দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে নামজারি (মিউটেশন), খতিয়ান সংশোধন, নাম পরিবর্তন বা খাজনা দাখিল—প্রতিটি কাজেই দাবি করা হচ্ছে ২ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ।
দুর্নীতির চিত্র যা উঠে এসেছে অনুসন্ধানে
অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নিয়মিত যেসব অনিয়ম ঘটে থাকে সেগুলোর মধ্যে—
ঘুষ গ্রহণ: নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি
দালাল সিন্ডিকেটের প্রভাব: কর্মকর্তাদের সঙ্গে দালালদের যোগসাজশে সেবাগ্রহীতাদের চাপে ফেলে টাকা আদায়
ইচ্ছাকৃত দীর্ঘসূত্রিতা: ফাইল ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখে ঘুষ নিতে চাপ প্রয়োগ
নথিপত্র গায়েব/জালিয়াতি: খতিয়ান বা রেকর্ড গায়েব করা, ভুল নথি তৈরি করে হয়রানি
খাজনা আদায়ে অনিয়ম: সরকারি খাজনার রসিদ না দেওয়া বা বেশি টাকা গ্রহণ
জমি বেদখলে সহায়তা: জাল কাগজপত্র তৈরি করে প্রকৃত মালিকের জমি অন্যের নামে নামজারি
তথ্য গোপন: প্রকৃত মালিককে তথ্য না দিয়ে নানাভাবে হয়রানি
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের উপসহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শারমিন আক্তারের নেতৃত্বে একটি দালাল চক্র এলাকাজুড়ে সক্রিয়। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ–দুর্নীতির অভিযোগ জানাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় অনিয়মের বিস্তার আরও বেড়েই চলেছে।
প্রশাসনের ব্যবস্থাহীনতায় ক্ষোভ
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে দুর্নীতি দমন সংস্থা টিআইবি বলছে, দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে ভূমি অফিস অন্যতম। তাই বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।
গজারিয়ায় বালুয়াকান্দি ভূমি অফিসে ঘুষ–দুর্নীতির মহোৎসব, দালাল সিন্ডিকেটে জিম্মি সাধারণ সেবাগ্রহীতা
৪৫
×
বিস্তারিত কমেন্টে…
