এ এইচ এম ইলিয়াস আহম্মেদ চৌধুরী-প্রধান প্রতিবেদক:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। ইরান জানিয়েছে, তারা দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-এর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তেহরান হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার শর্তে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল আগামী দুই সপ্তাহ নিরাপদ রাখতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
ইসলামাবাদে বৈঠক শুক্রবার
এই পরিস্থিতিতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে আসন্ন শুক্রবার পাকিস্তান-এর রাজধানী ইসলামাবাদ-এ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংলাপ একটি ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে।
তেহরানের ১০ দফা প্রস্তাব
ইরানের প্রস্তাবের প্রধান দিকগুলো হলো:
-
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ জোরদার
-
ইরানের ওপর আরোপিত সব আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
-
জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতে পূর্ণ স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা
-
আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে ইরানের ভূমিকা স্বীকৃতি
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট, যার মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালীকে ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা
সূত্রের খবর, শেহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার সময়সীমা বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং ইরানকে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তার এই উদ্যোগের পরই পরিস্থিতি কিছুটা নমনীয় হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া
এদিকে ইসরায়েল-এর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর কার্যালয় জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের প্রস্তাবিত দুই সপ্তাহের হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। তবে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি লেবানন-সংক্রান্ত পরিস্থিতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
অনিশ্চয়তার ছায়া
যদিও এই যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবুও এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই সপ্তাহের এই বিরতি মূলত একটি কূটনৈতিক ‘উইন্ডো’, যার মধ্যে উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এই সুযোগ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নির্ভর করছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক আস্থা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।
