এএইচএম ইলিয়াস আহম্মেদ চৌধুরী: প্রধান প্রতিবেদক।
ঢাকা, বৃহস্পতিবার: জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে ‘কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিওর (সংশোধন) আইন-২০২৬’। এই সংশোধনের মাধ্যমে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার লক্ষ্য গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
নতুন আইনে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে একাধিক ধারা সংযোজন করা হয়েছে। সংশোধিত ৪৬এ থেকে ৪৬ই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার মধ্যে তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন বা আইনজীবীকে বিষয়টি জানানো বাধ্যতামূলক। এছাড়া গ্রেপ্তারকারী কর্মকর্তাকে দৃশ্যমান পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আইনজীবী বা নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ দিতে হবে।
আইনটিতে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার নথিবদ্ধকরণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারের কারণ, সময় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবহিত করার তথ্য স্থানীয় থানার জেনারেল ডায়েরিতে (জিডি) তাৎক্ষণিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে। গ্রেপ্তারকারী কর্মকর্তা যদি সংশ্লিষ্ট থানার না হন, তাহলে তাকে গ্রেপ্তারের একটি মেমোরেন্ডাম ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি গ্রেপ্তারের সময় অন্তত একজন সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে; সাক্ষী না পাওয়া গেলে তার কারণও লিখিতভাবে উল্লেখ করতে হবে।
বিচারিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। সংশোধিত ৩২ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটদের জরিমানা আরোপের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট ৩ লাখ টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবেন।
এছাড়া ১৬৭ ধারায় পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আগে ও পরে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা হেফাজতে নির্যাতন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ১৭৩এ ধারায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের তদন্তের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন চাওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা তদন্ত প্রক্রিয়ায় তদারকি জোরদার করবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংশোধন বাস্তবায়ন হলে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে এর কার্যকর প্রয়োগই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
