২
গজারিয়া (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে বাস্তবসম্মত ব্যবস্থার নামে চলে হাদিয়া বাণিজ্য।
গত ০৯-০৯-২০২৫) রোজ বৃহস্পতিবার উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের ক্লাসটারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত ইউনিয়নের ১৫ টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ বিভিন্ন আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আগমন উপলক্ষে সম্বর্ধনা, ফুলের তোড়া, দুপুরে ভিআইপি খাবার ও উপঢৌকন প্রদানে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী শিক্ষক নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে ১৫টি বিদ্যালয় হতে ২০০০ (দুই হাজার) টাকা করে সংগ্রহ করে। জানা যায় এই টাকা সংগ্রহের নেতৃত্ব দেন প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাঘাইকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম।
ঘটনার অন্তরালে জানা যায় ১৫ টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ভালো রাখতে এ অর্থ সংগ্রহ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল সাহেব কে মনোরঞ্জন করতে আপ্যায়ন শেষে যাওয়ার সময় একটি খামে ঢুকিয়ে তাকে দেওয়া হয়।
একাধিক শিক্ষক জানান আমরা তো কোন অনিয়ম দুর্নীতি করি না তাহলে আমাদেরকে ভালো রাখতে কেন অর্থ দিতে হবে। শিক্ষকদেরকে সমন্বয়কারী শাহ আলম জানান হুজুররাতো হাদিয়া খায় তাদেরকে তো দিতে হবে।
উপজেলায় ৮৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতি অর্থ বৎসরে স্লিপ, রুটিন মেনটেন্স মেজর মেরামত, বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে সরকার বরাদ্দ দিয়ে থাকে। সেই অর্থ অধিকাংশ বিদ্যালয় সঠিকভাবে ব্যবহার না করে বিভিন্ন অসৎ উপায়ে সে বরাদ্দ বিভিন্ন প্রকার বুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে সহকারি শিক্ষা অফিসার ও শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষরে জমা হয়ে থাকে।
অন্যদিকে জেলা শিক্ষা অফিসার বিভিন্ন উপজেলায় ও ইউনিয়নে মতবিনিময় ও বাস্তবসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থার সভার নামে স্বার্থ হাসিলের জন্য কতিপয় অসৎ শিক্ষকদের মাধ্যমে চাঁদাবাজির পরিবর্তে হাদিয়া বাণিজ্য প্রবর্তনের অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসারের ( ডিপিও) নজরুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন কমিটি ও শিক্ষা অফিসারগণ সঠিক তদারকির অভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা নিম্ন পর্যায় চলে যায়। বিদ্যালয় ৯টা থেকে চারটা পর্যন্ত সময়সূচী থাকলেও অধিকাংশ বিদ্যালয় শিক্ষক ১০ ঘটিকার পূর্বে বিদ্যালয় উপস্থিত হয়নি সরজমিনে তা পরিলক্ষিত হয়। এমন কিছু বিদ্যালয় আছে দুপুর ১২:০০ টায় তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। শিক্ষক ছাত্রদের কোন উপস্থিতি নেই। অধিকাংশ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সকাল ৭ ঘটিকা হইতে দশ ঘটিকা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ভিতরে প্রাইভেট বাণিজ্য চালিয়ে যায় । একাধিক সংবাদ প্রচার হওয়ার পরেও বন্ধ হচ্ছে না সরকারি নির্দেশনায় প্রাইভেট বাণিজ্য।
এই অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধুমাত্র উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসার শোকজ দিয়েই নিজেদের দায়িত্ব পালন দেখায়।
এই বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহনাজ পারভীন ও সহকারী শিক্ষা অফিসার ইলিয়াস সাহেব কে একাধিক ফোন দেওয়ার পরেও ফোনে রিসিভ করেনি।
