ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদক:
রাজধানীর কুড়িলে হ্যালো কারস শোরুমে সংঘবদ্ধ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
২৮ আগস্ট সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে পরিকল্পিতভাবে শোরুমে প্রবেশ করে হামলা চালান একদল দুর্বৃত্ত। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়—প্রথমে তারা ক্রেতা সেজে প্রবেশ করে, কর্মীরা আপ্যায়ন করতে ব্যস্ত। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই বেরিয়ে আসে তাদের আসল রূপ। চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর থেকে শুরু করে অরাজকতা সৃষ্টি করে পুরো শোরুম তছনছ করে দেয় তারা।
হামলার নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ আনসারের উপপরিচালক কামরুন নাহার ও তার স্বামী এ এস এম নোমান আলম। উল্লেখ্য, এই শোরুমটি তাদের মালিকানাধীন জায়গায় ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ বছরের জন্য ভাড়া নেয় হ্যালো কারস কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে।
শোরুম ম্যানেজার মোজাইদুল ইসলাম তামিম অভিযোগ করে বলেন— “এতদিনে কোনো ভাড়া বা অন্য কোনো কারণে ঝামেলা হয়নি। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে জায়গার মালিক অগ্রিম দেয়া এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে পরিকল্পিতভাবে এ হামলার আয়োজন করেন।”
হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে ট্রিপল নাইনে ফোন করা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় নেয় দুই ঘণ্টারও বেশি। অথচ ঘটনাস্থল ভাটারা থানার কাছেই প্রগতি সরণিতে অবস্থিত। আরও অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করতে চাইলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।
ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ রাকিবুল হাসান সাংবাদিকদের মুঠোফোনে বলেন, এই ব্যাপারে যার ঘটনা হয়েছে উনি আনসারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। উনি মনে হয় আদালত থেকে মিসগাইড হয়েছেন। উনি তার জায়গা দখলে যাওয়ার জন্য আদালত থেকে কোন কাগজ পাওয়ার পরে দখলে গেছেন। আর এ ব্যাপারে আমি কোন এজহার পাইনি।
থানায় মামলা নিতে গড়িমসি করায় ভুক্তভোগীরা সরাসরি আদালতে মামলা করেন। মামলায় আসামী করা হয়—নোমান আলম, তার স্ত্রী কামরুন নাহারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনকে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর আসামিরা আদালতে হাজির হলে, কামরুন নাহার জামিন পান, তবে তার স্বামী নোমান আলমের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুন নাহার ব্যস্ততার অজুহাত দেন। পরবর্তীতে আর কোনো জবাব দেননি তিনি।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগীদের দাবি—মূল আসামী ছাড়া বাকিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় তারা এখনো নিরাপত্তা শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি, আকস্মিক এ ঘটনায় তাদের ব্যবসায়িক সুনাম ও আর্থিক ক্ষতিও মারাত্মকভাবে বেড়েছে।
এমন একটি ঘটনায় রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা একজন উচ্চপদস্থ আনসার কর্মকর্তার নাম জড়িয়ে পড়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। ভুক্তভোগীরা এখন ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছেন।
