৬
মোঃ মনিরুজ্জামান, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মোথাজুরী এলাকায় কবর থেকে মায়ের লাশ তুলে ঘরে রাখার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মাদকাসক্ত ছেলে সজিব হোসেনকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করছে পরিবার ও স্থানীয়রা। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মোথাজুরী এলাকার খোদেজা বেগম (৫০) স্বামী আনতাজ আলীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে সজিবকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই সজিব মাদকাসক্ত হয়ে মায়ের সঙ্গে নিয়মিত ঝগড়া ও নির্যাতন চালাতেন।
গত শনিবার দুপুরে তীব্র বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে খোদেজা বেগম মানসিক চাপে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার সন্ধ্যায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
কিন্তু সেই রাতেই সজিব গোপনে কবর খুঁড়ে মায়ের মরদেহ তুলে নিজ ঘরে এনে মশারি টানিয়ে লেপ–কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখে।
সোমবার সকালে স্থানীয়রা কবর খোলা দেখে সন্দেহ হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় সজিবের ঘরের তালা ভাঙে। এসময় ঘরের ভেতর মশারির নিচে লেপে মোড়ানো অবস্থায় খোদেজা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন লাশ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।
এদিকে দাফনের পর সজিব তার মামা আব্দুল মান্নান মিয়াকে ফোন করে ‘মাকে কেন দাফন করা হলো’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দাফন কাজে অংশ নেওয়া স্বজনদের হত্যার হুমকিও দেন। এতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে আরও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খোদেজার বড় ভাই আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন,
“সজিব আমাকে ফোন দিয়ে বলেছে—মাকে কেন মাটিতে দিয়েছি। সে আমাকে খুন করার হুমকিও দিয়েছে। আমরা সবাই ভয়ে আতঙ্কে আছি।”
ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুরুজ জামান বলেন,
“ঘটনাটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও হৃদয়বিদারক। স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ পুনরায় দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি আইনগতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এই ঘটনার পর এলাকায় ভয়, ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
