মুন্সিগঞ্জ থেকে ফিরে –
# সফিউর রহমান সফিক # হাফিজুর রহমান
চোর না শুনে ধর্মের কাহিনী তেমনি একজন কৃষকের পকেট কাটা চোরের নাম সাখাওয়াত হোসেন ও আরিফ হোসেন যাহারা মুন্সিগঞ্জ জেলা সহ সারা দেশে বীজ আলুর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৃষকের পকেট কেটে কয়েক শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এমন গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে কৃষকের পকেট কাটা উক্ত দুই চোরের বিরুদ্ধে।
বিভিন্ন সূত্রে ও অনুসন্ধানে জানা গেছে প্রতিবছর আলু রোপন মৌসুমে বীজ আলুর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কিষাণ ও নাবিল নামক কোম্পানি ক্রয় মূল্য থেকে বীজ আলুর দাম সিন্ডিকেট করে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়ে কৃষকের পকেট কেটে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। যার ফলে সাধারণ কৃষকের অনেকেই এ বছর আলুর বীজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে চড়া মূল্য দিয়ে বীজ আলুর বাক্স ক্রয় করতে না পেরে আলুর রোপন করতে পারেনি । সাখাওয়াত -আরিফ সিন্ডিকেট কারসাজি করে বীজ আলুর মূল্য বৃদ্ধির জন্য । এই বিষয়ে কৃষি
সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায়নি কৃষকরা। আওয়ামীলীগ সরকারের দোসর আরিফ – সাখাওয়াত শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে বিভিন্ন অপকর্ম করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সূত্রে প্রকাশ বিদেশ থেকে আলু বীজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নাবিল এন্টারপ্রাইজ ও কিষান এন্টারপ্রাইজ এই দুই প্রতিষ্ঠান উন্নত মানের বিভিন্ন আলু বীজ প্রতিবছর ইউরোপের নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম সহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে। বীজ আলু আমদানি করার সুবাদে শুল্ক রেয়াত সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে আমদানিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের কাছ থেকে। প্রান্তিক কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে বীজ আলু পেতে পারে সেই জন্য আমদানি কারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুল্ক সুবিধা দেন সরকার। তবে বীজ আলু আমদানির সুবাদে আমদানিকারকরা সরকার থেকে বিভিন্ন সুযোগ নিলেও কৃষকেরা এর ফল ভোগ করতে পারে নাই কখনো। জানা গেছে কিষান এন্টারপ্রাইজের আরিফ ও নাবিল এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার সাখাওয়াত হোসেন বীজ রোপণ মৌসুমে বীজ আলুর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের প্রায় ৪০থেকে ৫০ গুণ মূল্য বেশি দামে বিক্রি করছে । উক্ত দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন থেকে কৃষকের এমন অভিযোগ। যার প্রেক্ষিতে মুন্সিগঞ্জ সহ সারা দেশে চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে বীজ আলু । এদিকে মুন্সীগঞ্জের কয়েকটি আলু বীজ বাজারে ও দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক এলাকায় সরজমিনে ঘুরে অনুসন্ধান করে জানা গেছে এই বছর বর্তমানে তিন হাজার টাকার আলু বীজ বস্তা আমদানিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রি করছে ১০০০ থেকে১২০০০টাকা। বিদেশ থেকে আমদানি করা আলুর বাক্স বস্তা কিষান এন্টারপ্রাইজ ও নাবিল এন্টারপ্রাইজ ও তাদের ডিলার এবং প্রতিনিধিরা বিক্রি করছে১৬হাজার ২০ হাজার থেকে ৪০ ও ৫০ হাজার টাকা। কৃষককে ফাঁদে ফেলে উক্ত চক্রটি প্রান্তিক চাষীদের পকেট কাটছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এই বিষয়ে আলু বীজ সিন্ডিকেটের কারসাজিতে জড়িত সাখাওয়াত হোসেন ও আরিফ হোসেন বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানিয়েছেন কৃষক সমাজ ও বিভিন্ন মহল ।
অন্যদিকে আরো জানা গেছে আলু বীজের কৃত্রিম সংকর সৃষ্টি করে কৃষকের পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতে নেওয়া আরিফ সাখাওয়াত সিন্ডিকেট অনিয়ম দুর্নীতি ও নানান অপকর্ম করে বর্তমানে কোটি কোটি টাকা ও বিপুল সম্পদের মালিক । এই বিষয়ে ভোক্তা অধিকার ও দুর্নীতি দমন কমিশন কে দৃষ্টি দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন বিভিন্ন মহল। (চলবে)
