নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে ফিরে– সফিউর রহমান সফিক
———————————————–
নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁও এর গ্যাস চোর এক মাফিয়া নাম মনজুর হোসেন বাবুল । যিনি তিতাসের কর্মকর্তাদের বোকা বানিয়ে মার্বেল ফ্যাক্টরির আড়ালে গ্যাস চুরি করে আজ শত কোটি টাকা ও বিপুল সম্পদের মালিক এমন গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে প্রায় দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তার মালিকানাধীন মহিমা মার্বেল এন্ড বিয়ারিং ফ্যাক্টরিতে বৈধ লাইনের আড়ালে অবৈধ লাইন টেনে কোটি কোটি টাকার গ্যাস চুরি করে এই কুলাঙ্গার আজ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ । প্রায় দীর্ঘ ১যুগের বেশি সময় ধরে মনজুর হোসেন বাবুলের মহিমা মার্বেল ফ্যাক্টরি অবৈধ গ্যাসে চললেও তিতাসের কর্মকর্তারা এই চোরকে ধরতে পারেনি , তবে কথায় আছে চোরের দশ দিন আর গৃহস্থের একদিন সেই প্রবাদই অবশেষে সত্যি হলো । কিছুদিন আগে তিতাস কর্মকর্তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনারগাঁ থানা সংলগ্ন
এলাকায় মঞ্জুর হোসেন বাবুলের মালিকানাধীন মহিমা মার্বেলে এন্ড বিয়ারিং ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালিয়ে চোরাই লাইনের সন্ধান পায় , বিশেষ কায়দা ফ্যাক্টরিতে অবৈধ লাইন টেনে বছরের পর বছর যাবত মনজুর হোসেন বাবুল গ্যাস চুরি করে মার্বেল ফ্যাক্টরি চালিয়ে আসছিল। অবশেষে তিতাসের অভিযানীক দল অবৈধ লাইন কেটে ফ্যাক্টরিতে সিলগালা করে মোটা অংকের টাকা জরিমানা করে। তার বিরুদ্ধে গ্যাস চুরির অপরাধে মামলা দায়ের করেন। তিতাস কর্মকর্তারা এই গ্যাস চোরের অভিনব কায়দায় বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে চোরাই লাইন টানার বিষয়টি দেখে অবাক হন। কি করে বছরের পর বছর ধরে তিতাস কর্মকর্তাদের চোখে ফাঁকি দিয়ে ফ্যাক্টরি চালিয়ে আসছিল অবৈধ গ্যাস দিয়ে । গ্যাস চুরির অপরাধে মহিমা মার্বেল এন্ড বিয়ারিং ফ্যাক্টরির মালিক মনজুর হোসেন বাবুলের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ মামলা করেছে বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে একাধিক সূত্রে আরও জানা গেছে মঞ্জুর হোসেন বাবুল বর্তমানে তার মার্বেল ফ্যাক্টরিতে গ্যাস সংযোগ পুনরায় নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে দৌড় ঝাঁপ শুরু করেছে এবং তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই কাজটি সম্পাদন করার জন্য নারায়ণগঞ্জ তিতাসের জোনাল অফিসে ছোটাছুটি করছে বলে সূত্র প্রকাশ । অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে গ্যাস চোর মাফিয়া মঞ্জুর হোসেন বাবুল মার্বেল এন্ড বিয়ারিং ফ্যাক্টরি আড়ালে গ্যাস চুরি করে ক্ষান্ত হয়নি এই গ্যাস চোর সোনারগাঁও ও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া এলাকায় তার নেতৃত্বে চলছে একাধিক অবৈধ চুনা তৈরির ফ্যাক্টরি। চুনা তৈরি ঔ ফ্যাক্টরিগুলো সম্পূর্ণই চলে চোরাই গ্যাস দিয়ে । ফ্যাক্টরি গুলোতে নেই কোন কাগজপত্র বৈধ গ্যাস লাইন ।বছরের পর বছর বাবুলচক্র মার্বেল এন্ড বিয়ারিং ও চুনা পাথর কারখানার আড়ালে গ্যাস চুরি করে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। গ্যাস চুরির টাকায় একাধিক ফ্লাট, গাড়ি , বাড়ির মালিক । রাজধানীর ধানমন্ডিতে মন্জুর হোসেন বাবুল রয়েছে ছয়টি ফ্লাট যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা । একাধিক বাড়ি, দোকান ও প্লট , ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুরে রয়েছে বলে জানা গেছে । যেই লোকটির এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরাত সে কি করে আজ এত সম্পদের মালিক এই ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনকে দৃষ্টি দিয়ে উক্ত গ্যাস চর মাফিয়াকে আইনের আওতায় আনার দাবির তুলেছেন বিভিন্ন মহল। কে এই গ্যাস চোর মন্জুর হোসেন বাবুল ? নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের লাহা পাড়া গ্রামের তমিজ উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে । ছোটবেলায় থেকেই ছিল উশৃংখল , প্রতারণা জালিয়াতি সহ এমন কোন কাজ নেই মন্জুর হোসেন বাবুল করেনি । রাজধানী ঢাকায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে মদ, নারী, জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এলাকায় তিনি ও চিটার বাবুল হিসাবে লোকজনের কাছে পরিচিত । অন্যদিকে আরো জানা গেছে মঞ্জুর হোসেন বাবুল আওয়ামী লীগের এর দোসর । জুলাই – আগস্ট ছাত্র – জনতার বিপ্লব এর সময় ছাত্র জনতার উপর তার দলবল নিয়ে হামলাও নির্যাতন করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে । এদিকে গ্যাস চোর মঞ্জুর হোসেন বাবুল ফ্যাক্টরির আড়ালে গ্যাস চুরি অবৈধ বিভিন্ন ব্যবসা ও দুর্নীতির পন্থায় বিপুল সম্পদ অর্জন করার বিষয়ে জানতে তার বক্তব্য নিতে তার মুঠোফোনে ফোনে দিলে প্রতিবেদকের সাথে তিনি অশ্লীল ভাষায় কথা বলে গালিগালাজ করে এবং পত্রিকা তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে জীবনে মেরে ফেলা সহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে ফোন রেখে দেন এবং তার পালিত এক গণমাধ্যম কর্মীকে দিয়ে ফোন করায় এবং তার পক্ষে সাফাই গায় ঔ গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দানকারী । অন্যদিকে তিতাসের এমডি শাহনেওয়াজ পারভেজ ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের তিতাসের প্রধান কর্মকর্তা মোঃ সেলিম মিঞার সাথে যোগাযোগ করে মার্বেল ফ্যাক্টরি ও চুনাপাথর ফ্যাক্টরি আড়ালে মনজুর হোসেন বাবুলের গ্যাস চুরির বিষয়ে জানতে ফোন করলে কর্মকর্তারা বলেন অবৈধভাবে মঞ্জুর হোসেন বাবুল দীর্ঘদিন যাবত ফ্যাক্টরের আড়ালে গ্যাস চুরি করে আসছিল আমাদের নজরে ধরা পড়লে তার লাইন কেটে তাকে আইনের আওতায় এনে জরিমানা করি এবং বর্তমানে যদি কোন কর্মকর্তা এই অবৈধ ফ্যাক্টরিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান ঔ কর্মকর্তারা এর সাথে আরো বলেন ভবিষ্যতে যাতে মনজুর হোসেন বাবুল চক্র বিভিন্ন ফ্যাক্টরি আড়ালে অবৈধ লাইন টেনে গ্যাস চুরি করে মার্বেল ও বিভিন্ন ফ্যাক্টরি চালাতে না পারে সেই দিকে তারা সজাগ দৃষ্টি রাখছে বলে জানায়। এই চক্রের বিষয়ে কোনো ছাড় নয় বলে তিতাস কর্মকর্তারা এ কথা বলেন। এর পাশাপাশি জনগণকেও অবৈধ গ্যাস সংযোগ এর বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে তাহাতে দুর্বৃত্তরা অবৈধ লাইন টেনে গ্যাস চুরি করতে না পারে সেই ব্যাপারে আমাদেরকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। গ্যাস চোরদের ব্যাপারে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করার আহ্বান জানান তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।( চলবে)
