ইবি প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৮টি অনুষদের ৩৫ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের পদক, সনদ ও নগদ অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ডিনস কমিটির সভাপতি ও থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. অ.ব.ম. ছিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী’র সভাপতিত্বে এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: মনজুরুল হক এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। এছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থিওলজি অ্যন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. অ.ব.ম. ছিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: এমতাজ হোসেন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খোন্দকার তৌহিদুল আনাম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শেলিনা নাসরিন, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ অধ্যাপক ড. মো: মনজুরুল হক, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: আসাদুজ্জামান ও জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাবলী সাবিনা আজহার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “মেধাবীরাই পৃথিবী বদলেছে, মেধাবীরাই বাংলাদেশ বদলাবে। মেধাবীরা সমাজের অগ্রগামী শক্তি। তাদের জ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও উদ্ভাবনী দক্ষতা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই মেধাবীরা যাতে আশাহত না হয় সেজন্য তাদেরকে যোগ্য সম্মান দিয়ে উৎসাহিত করতে হবে।”
তিনি মেধাবী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই মেধার হিসাব প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই আজকের পরিবর্তিত বাংলাদেশ। মেধাবীদের সুযোগ করে দিতেই সেদিন সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল। সে সংগ্রাম দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছড়িয়ে গিয়ে পরিণত হয়েছিল সাধারণ জনতার অভ্যূত্থানে। যেখানে প্রায় দুই হাজার মানুষ শহীদ হন।মেধাবীদেরকে সেই আন্দোলনকে, সেই প্রাণ বিসর্জনকে সম্মান জানাতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য বলেন, “যে অবস্থায় পূর্বে এ দেশ ছিল সেখানে মেধার মূল্যায়ন তো অনেক দূরে, এই মেধাবী শব্দটিই আমরা ভুলতে বসেছিলাম। সেখান থেকে দেশ আজ উঠে এসেছে। মাঝখানে হারিয়ে গেছে অসংখ্য তাজা প্রাণ। সেই ঝরে যাওয়া প্রাণের বিনিময়ে তোমাদের এই মেধার মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তোমাদের অঙ্গীকার করতে হবে। দেশের জন্য যারা প্রাণ দিয়েছে, সেই দেশের উন্নয়নে তোমরা কাজ করে যাবে।”
তিনি মেধাবীদের সমাজের অন্যায়, বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে অগ্ৰসর হতে আহ্বান জানান।
