এএইচএম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী-প্রধান প্রতিবেদক:
নেগোশিয়েশন শুরুর আগেই শক্ত অবস্থান প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বার্তা দিল ইরান। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়েছে—তারা কোনো ধরনের তাড়াহুড়া বা চাপের মুখে নয়, বরং সুপরিকল্পিত কৌশল নিয়েই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
প্রথম থেকেই ইরানের অবস্থান ছিল অনড়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শুরুতে সীজফায়ারের ব্যাপারে আগ্রহ দেখানোর কথা প্রচারিত হলেও পরবর্তীতে The New York Times-এর প্রতিবেদনে উঠে আসে, ইরান আসলে সীজফায়ারে আগ্রহী ছিল না। বরং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump-ই পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে আলোচনায় আনতে উদ্যোগী হন।
নিউক্লিয়ার ইস্যুতেও ইরান কোনো ছাড় দেয়নি। সরাসরি সীজফায়ারে সম্মত না হয়ে তারা ১০ দফা দাবির ভিত্তিতে আলোচনার শর্ত দেয়। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে সেই শর্ত মেনেই অগ্রসর হতে হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
কূটনৈতিক ভাষার ক্ষেত্রেও ইরানের সূক্ষ্ম কৌশল লক্ষ্যণীয়। টুইটের ভাষা পর্যন্ত দর কষাকষির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে—যা আধুনিক কূটনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে লেবাননের বিষয়টি উল্লেখ করিয়ে ইরান আগাম কৌশলগত সুবিধা নেয়, কারণ তারা ধারণা করেছিল যে Israel সীজফায়ার ভাঙার চেষ্টা করতে পারে।
প্রাথমিকভাবে লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখলেও পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েলকে পিছু হটতে হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের ফান্ড আনফ্রিজ করতেও সম্মত হয়েছে।
ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এই কৌশল আরও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে Yasser Arafat-এর নেতৃত্বাধীন পিএলওর আলোচনায় বারবার দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল। ১৯৬৭ সালের United Nations প্রস্তাবনায় একটি ছোট শব্দগত পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছিল—যার প্রভাব এখনো বিরাজমান।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরান সেই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ৮৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—যা তাদের প্রস্তুতি ও গুরুত্বেরই প্রতিফলন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই চুক্তি টেকসই হবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ইরান আলোচনায় বসেছে শক্ত অবস্থান থেকে, এবং কোনো দুর্বল চুক্তিতে তারা আগ্রহী নয়।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে শক্ত অবস্থান, প্রস্তুতি এবং কৌশল—এই তিনের সমন্বয় কীভাবে ফলপ্রসূ হতে পারে, তার সাম্প্রতিক উদাহরণ হয়ে উঠছে ইরান। মুসলিম বিশ্বের জন্য এখান থেকে শেখার সুযোগও কম নয়।
