বিশেষ প্রতিবেদন .রবিবার, ঢাকা:
নগর জীবনের প্রতিদিনের চিত্র এখন একটাই—ফুটপাত আছে, কিন্তু হাঁটার জায়গা নেই। পথচারীদের জন্য নির্ধারিত এই স্থান দখল হয়ে গেছে হকার, অবৈধ দোকান, পার্কিং, এমনকি নির্মাণসামগ্রীর স্তূপে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়কে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ ফুটপাতই কার্যত দখল হয়ে আছে। কোথাও দোকান বসানো হয়েছে, কোথাও আবার মোটরসাইকেল বা গাড়ি পার্ক করা। অনেক ক্ষেত্রে ফুটপাত এতটাই সংকীর্ণ বা ভাঙাচোরা যে, তা ব্যবহারই করা যায় না। ফলে স্কুলগামী শিশু, বৃদ্ধ ও নারী—সবাই ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে
ট্রাফিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পথচারীদের সড়কে নামতে বাধ্য করা সরাসরি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার পেছনে ফুটপাতের অপ্রাপ্যতা একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। অথচ নিরাপদ হাঁটার পরিবেশ নিশ্চিত করা নগর ব্যবস্থাপনার অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।
উচ্ছেদ অভিযান: সাময়িক সমাধান
প্রশাসন মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টেকসই হয় না। কয়েকদিন পরই আবার আগের চিত্র ফিরে আসে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগের অভাবেই এই পুনর্দখল ঘটে।
জীবিকার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ
ফুটপাত দখলের সঙ্গে জড়িত একটি বড় অংশ হলো নিম্নআয়ের মানুষ, যারা হকারি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। হঠাৎ উচ্ছেদ তাদের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া শুধু উচ্ছেদ করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
সমাধানের পথ কী?
বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছেন—
* দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর আইন প্রয়োগ
* পরিকল্পিত হকার জোন স্থাপন
* ফুটপাত উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে অগ্রাধিকার
* নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি
* সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ
নাগরিকদের প্রত্যাশা
নগরবাসীর দাবি, তারা শুধু নিরাপদে হাঁটতে চান—এটি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং মৌলিক অধিকার। দখলমুক্ত, নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য ফুটপাত নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহরের মানদণ্ড নির্ধারণ হয় তার পথচারীবান্ধব পরিবেশের মাধ্যমে। তাই ফুটপাতকে দখলমুক্ত করে হাঁটার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়—এটি একটি মানবিক ও নাগরিক অঙ্গীকার।
