গজারিয়া মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মচারী মিজানুর রহমানের ঘুষ গ্রহণের ভিডিওসহ সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে গজারিয়া উপজেলার সাংবাদিক সমাজ।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মোহাম্মদ আলী প্রধান প্লাজার সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রকাশিত ভিডিওতে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে ঘুষ গ্রহণ করতে স্পষ্ট দেখা গেছে। যাচাই-বাছাই করে সত্য তথ্য তুলে ধরার পরও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি।
তারা দ্রুত এই মামলা প্রত্যাহার ও অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এশিয়ান টেলিভিশন গজারিয়া প্রতিনিধি ও গজারিয়া থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি নেয়ামুল হক নয়ন বলেন ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কলম সর্বদাই চলবে।
দৈনিক দেশ রূপান্তর ও আমার বিক্রমপুর-এর প্রতিনিধি আজিজুল হক পার্থ বলেন, অন্যায় করে ধরা পড়ার পরও অভিযুক্তের দম্ভ কমেনি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে কিনা। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে আড়াল থেকে সহায়তা প্রদানকারীদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
দৈনিক আমার দেশ-এর গজারিয়া প্রতিনিধি মো. আমিরুল ইসলাম নয়ন বলেন, ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও একজন ‘চিহ্নিত ঘুষখোর’ কীভাবে মামলা করার সাহস পায়, তা প্রশ্নবিদ্ধ। দীর্ঘদিন ধরে ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন, যার মধ্যে হাসপাতালের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও ‘কলম বিরতি’ পালনের কথাও উল্লেখ করেন।
মানববন্ধনে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই একযোগে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট মিজানুর রহমানের ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও গত ১০ মার্চ স্থানীয় ও জাতীয় কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ২৪ মার্চ বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আবু সাঈদ ও এনটিভি’র প্রতিনিধি মঈনউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মানহানি ও দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
