নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকার মতিঝিল ,ডেমরা, মাতুয়াইল, গুলশান, বাড্ডা, মিরপুর, সাভার ও আশুলিয়া–সংলগ্ন বিভিন্ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে মনিরুজ্জামান মনির নামধারী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি সরকারি কর্মকর্তা ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করে অর্থ আদায়ের মতো অসংখ্য অপকর্মে জড়িত—এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
জানা যায়, একসময় বাসে হকারি ও হেলপার হিসেবে কাজ করা মনির পরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রভাব খাটাতে শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা করে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ তৈরি করে চাঁদাবাজি করেন। ঘুষ না দিলে তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া, পরে সেই সংবাদ লিংক এসএমএস বা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করাই তার প্রধান কৌশল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
রাজধানীর কয়েকটি ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, মনির তার ভিজিটিং কার্ড দেখিয়ে নামজারি, খাজনা বা দলিল সংক্রান্ত কাজের নাম করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেন। অভিযোগ রয়েছে, একজন গ্রুপ অব কোম্পানির মালিকের কাছ থেকে নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন মনির। কাজ না করে পরে সেই ব্যক্তিকেই বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়।
আরেক অভিযোগকারী সাংবাদিক শাহাদাত বাবুল বলেন, একসময় হাতে-পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে ৭০ হাজার টাকার মুচলেকায় ছাড়া পান মনির। তখন তিনি স্বীকার করেন যে তিনি “বাটপার”, আর কোনো অনিয়ম করবেন না বলে প্রতিশ্রুতিও দেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি আগের মতোই চাঁদাবাজি ও প্রতারণামূলক কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন।
আগে হকারি–আজ ফ্ল্যাট
অভিযোগ রয়েছে, আমিনবাজার–সাভার এলাকায় তিনি ইতোমধ্যে নিজস্ব ফ্ল্যাট ও বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সম্প্রতি ওমরাহ পালন করেও ফিরে এসেছেন। এসব সম্পদের বৈধ উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
গণধোলাই ও মামলা
সূত্র জানায়, তেজগাঁও ভূমি অফিসে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে একদফা গণধোলাইয়ের শিকার হন মনির। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল। মিরপুরের একটি হোটেলে চাঁদা তুলতে গিয়েও হাতেনাতে ধরা পড়ে এলাকাবাসীর কাছে গণধোলাই খান তিনি। বেশ কয়েকটি থানায় তার নামে মামলা রয়েছে বলেও জানা যায়। বনানী পূর্ণিমা আবাসিক হোটেলে চাঁদা দাবি করার অপরাধে একসময় হাতেনাতে ধরা খেয়ে মারধরের শিকার হন। পরে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। এক সময় তিনি বাঁচতোহারা লিভ করতেন ।
প্রশাসনের নজরদারি দাবি
ভুক্তভোগী এবং ভূমি সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ—এমন অপকর্মের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সরকারি সেবা ব্যবস্থাকে বারবার বিব্রত ও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এছাড়া সাংবাদিক মনির মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
