ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদক:
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়েরবাজারে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর আসাদুল ওরফে লম্বু আসাদুল হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। দ্রুততম সময়ে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ও আসামি গ্রেফতার করায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো—
১. মোঃ মুন্না (২৪)
২. মোঃ আকতার হোসেন (৪৫)
৩. মোঃ মিরাজ ফকির (২২)
৪. মোঃ নয়ন ওরফে খোকন (২৪)
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৬ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে সাদেক খানের ইটখোলা এলাকা সংলগ্ন রিপনের ওয়ার্কশপের সামনে অতর্কিতভাবে আসাদুলের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ধারালো সুইস গিয়ার চাকু ও ইট দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর জখম হন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচাতো বোন অঞ্জু আক্তার হত্যার ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পরপরই মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি টিম গোয়েন্দা তৎপরতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের পরিচয় নিশ্চিত করে। এরপর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। আসামিদের হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুইস গিয়ার চাকু ও একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, ভিকটিম আসাদুলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও পূর্বের একটি মারধর ও মামলা কেন্দ্র করে আকতার হোসেনের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়েছে। এছাড়াও টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল বলে পুলিশ জানায়।
গ্রেফতারকৃত মুন্নার বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইয়ের সাতটি, মিরাজের বিরুদ্ধে একটি এবং নয়নের বিরুদ্ধে দুইটি মাদক মামলা রয়েছে।
মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানা সূত্র জানিয়েছে, সব আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
