ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদক *
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে এক দম্পতি ও তাঁদের দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৮টার দিকে ওই গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাঁদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গরু বিক্রির টাকা লুটের উদ্দেশ্যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
নিহতরা হলেন বাহাদুরপুর গ্রামের গরু ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান (৩৫), তাঁর স্ত্রী পপি খাতুন (৩০), তাঁদের ১০ বছর বয়সী ছেলে পারভেজ হোসেন এবং ৩ বছর বয়সী শিশু কন্যা সাদিয়া খাতুন। পারভেজ স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফেরেন হাবিবুর রহমান। তাঁর কাছে গরু বিক্রির নগদ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ওই টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় পরিবারের চার সদস্যকেই হত্যা করে তারা। লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে পপি খাতুনের কানের দুলও নিয়ে গেছে ঘাতকরা।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, হাবিবুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে তাঁদের দুই সন্তানকে মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ভোরে ফজরের নামাজের পর হাবিবুরের বাবা নমির হোসেন দরজার সামনে রক্ত দেখে ঘরে ঢুকে মরদেহগুলো দেখতে পান।
নিহতের বাবা নমির হোসেন দাবি করেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেও এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তাঁর অভিযোগ, পরিবারের কিছু সদস্য আগেও তাঁদের হত্যার হুমকি দিয়েছিল।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতের ভাগনে সবুজ হোসেন (২৫)কে আটক করেছে পুলিশ। ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। পরিচয় গোপন করতে শিশুদেরও হত্যা করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।”
মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন নেটিজেনরা।
