ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদক:
ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান এক পারিবারিক জমি বিরোধ নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম আরেফিন আসাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে—পিতার রেখে যাওয়া ওয়ারিশি সম্পত্তি থেকে নিজের ভাই-বোনদের বঞ্চিত করে এককভাবে দখল করে রেখেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা নিজেদের প্রাপ্য জমি বুঝে নিতে গেলে আসাদ ও তার দুই ছেলে জয় ও জিসান তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে একাধিকবার তারা আহত হয়েছেন, এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মৃত ভাই গোলাম মোস্তফা আলাউদ্দিন মিয়ার নাম ওয়ারিশ তালিকা থেকে বাদ দিয়ে জমি রেকর্ড করে নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, মৃত লুৎফর রহমান মৃত্যুকালে ৫ পুত্র, ৯ কন্যা ও স্ত্রী রেখে যান। তিনি বসতভিটাসহ বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি রেখে যান। কিন্তু পরিবারের একাধিক সদস্যের অভিযোগ—এই সম্পত্তির ন্যায্য বণ্টন হয়নি এবং দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে তারা অধিকারবঞ্চিত।
এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। ভুক্তভোগীরা জানান, জমির দখল নিতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়, এমনকি পারিবারিক বসতভিটায় প্রবেশ করতেও দেওয়া হয় না।
গোলাম কিবরিয়া আকরাম বলেন, “নিজের বাবার বাড়িতে যেতে পারি না। ভাতিজারা মারধর করে বের করে দেয়। মেয়েকেও মারধর করেছে। এখন আমরা ভয়ে থাকি।”
অন্যদিকে, ফরিদা বেগমসহ কয়েকজন নারী সদস্য অভিযোগ করেন, তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে এবং জোর করে জমি লিখে দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফরিদা বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ফরিদপুর জজ কোর্টে বণ্টন সংক্রান্ত মামলা, কোতোয়ালি থানায় হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে মামলা এবং একাধিক সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
স্থানীয় কাউন্সিলর খন্দকার সামছুল আরেফিন সাগর জানান, বিষয়টি নিয়ে বহুবার সালিশ করা হলেও সমাধান হয়নি। তার ভাষায়, “আসাদ কারো কথা শোনেন না, আইনেরও তোয়াক্কা করেন না।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত গোলাম আরেফিন আসাদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে পারিবারিকভাবে জমির বণ্টন করা হয়েছিল, যা তার বোনেরা মানতে চাইছেন না। তিনি দাবি করেন, তার নিজের জমিও অন্যরা দখল করে রেখেছে এবং এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহ আলম জানান, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে তদন্তাধীন। তিনি বলেন, “দুই পক্ষকেই ডেকে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিছু সমস্যা মিটেছে, তবে পুরোপুরি সমাধান হয়নি।”
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে তারা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পান।
