এএইচএম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী, প্রধান
প্রতিবেদক, ঢাকা:
দেশে বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছে সরকার। তবে মাঠপর্যায়ে সরবরাহে অসঙ্গতি ও সংকটের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
গতকাল চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শনকালে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে এপ্রিল ও মে মাসের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি জুন মাসের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় আগাম প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি থাকার কথা নয়।
তবে সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের একাংশ বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেল সরবরাহে ধীরগতি, কোথাও কোথাও স্বল্পতা এবং পেট্রোল পাম্পে বাড়তি চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে পরিবহন খাতসহ বিভিন্ন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, কেবল মজুত পর্যাপ্ত থাকলেই সংকট নিরসন হয় না; বরং সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও সমন্বয়ই এখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। সরবরাহ চেইনের কোনো স্তরে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে তা দ্রুতই বাজারে প্রভাব ফেলে এবং কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এদিকে, জ্বালানি খাতে সরকারের নজরদারি ও তদারকি আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মজুত ও সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা না গেলে ঘোষিত সক্ষমতা বাস্তবে প্রতিফলিত হবে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত ‘রেকর্ড মজুত’ বাস্তব সংকট মোকাবিলায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
