সাব্বির হোসেন, টাঙ্গাইলের গোপালপুরে স্মরণকালের ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে বোরো মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ সংকটে সেচ কাজ ব্যাহত হওয়ায় কান্নার রোল পড়ে গেছে কৃষকদের ঘরে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে পানির অভাবে ফেটে চৌচির হচ্ছে ফসলি জমি, মরতে বসেছে কৃষকের কষ্টের […]
সাব্বির হোসেন, টাঙ্গাইলের গোপালপুরে স্মরণকালের ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে বোরো মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ সংকটে সেচ কাজ ব্যাহত হওয়ায় কান্নার রোল পড়ে গেছে কৃষকদের ঘরে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে পানির অভাবে ফেটে চৌচির হচ্ছে ফসলি জমি, মরতে বসেছে কৃষকের কষ্টের ফসল।
মাঠে নেই পানি, চোখে কৃষকের জল,, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র রোদে মাঠের ধান গাছ লালচে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। সেচ পাম্পগুলো বিদ্যুতের অভাবে অচল হয়ে পড়ে আছে। কৃষকরা বলছেন, এই সময়ে ধানে পর্যাপ্ত পানি না দিলে ফলন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
একজন ভুক্তভোগী কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “২৪ ঘণ্টার মদ্যি ২ ঘণ্টাও কারেন্ট থাকে না। মেশিন চালামু কেমনে? খেতের মাটি ফাইটা চৌচির হয়া গেছে। এনজাই তলে (এখন যদি) পানি না দিবার পারি, তবে না খাইয়া মরণ ছাড়া উপায় নাই। আমাগোর কান্দন দেখার কেউ নাই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচী নেই। দিনে বা রাতে—কখন বিদ্যুৎ আসবে আর কখন যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শুধু কৃষি নয়, স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জনজীবন। প্রচণ্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও প্রতিকার মিলছে না।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সেচ সংকটের এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে। এতে কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়বেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
এলাকার সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে কৃষকের ফসল রক্ষার ব্যবস্থা করা হোক। অন্যথায় বড় ধরনের খাদ্য সংকটের পাশাপাশি নিঃস্ব হয়ে পড়বে হাজার হাজার কৃষক পরিবার। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানানো হয়েছে, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় এই লোডশেডিং হচ্ছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখছেন না এলাকাবাসী।
সোনালী ফসলের বুক চিরে এখন কেবল হাহাকার। কৃষক আজ প্রকৃতির দয়ায় নয়, বরং বিদ্যুতের আশায় আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখের জল ফেলছে।