[location_search]
সম্পূর্ণ নিউজ ভোরের বাংলাদেশ

ইসলাম
১২:২১ অপরাহ্ণ, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চিকিৎসাবিজ্ঞানে ও রোজা

ভােরের বাংলাদেশ” রোজা ইসলামের মূল পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম একটি। আনন্দের বিষয় হচ্ছে, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও রোজার ব্যবহারিক তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পেরেছে। ইউরোপের ঘরে ঘরে ফাস্টিং বা রোজা রাখার হিড়িক পড়েছে। তাদের মুখে শোনা যাচ্ছে, ‘শরীরটাকে ভালো রাখতে চাও, তো রোজা রাখো।’ জার্মানির বিখ্যাত একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিকের ফটকে বড় অক্ষরে লেখা, ‘রোজা রাখো, স্বাস্থ্যবান হবে।’ পেটভর্তি করে […]

চিকিৎসাবিজ্ঞানে  ও রোজা
৩ মিনিটে পড়ুন |

ভােরের বাংলাদেশ”
রোজা ইসলামের মূল পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম একটি। আনন্দের বিষয় হচ্ছে, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও রোজার ব্যবহারিক তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পেরেছে। ইউরোপের ঘরে ঘরে ফাস্টিং বা রোজা রাখার হিড়িক পড়েছে। তাদের মুখে শোনা যাচ্ছে, ‘শরীরটাকে ভালো রাখতে চাও, তো রোজা রাখো।’

জার্মানির বিখ্যাত একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিকের ফটকে বড় অক্ষরে লেখা, ‘রোজা রাখো, স্বাস্থ্যবান হবে।’ পেটভর্তি করে খাওয়া অপেক্ষা মানুষের জন্য মন্দ দ্বিতীয় কোনো কাজ নেই। মানুষের টিকে থাকার জন্য কয়েক লোকমাই যথেষ্ট।

হজরত মিকদাম ইবনে মাদিকারাব (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘পেটের চেয়ে মন্দ কোনো পাত্র মানুষ ভরাট করে না। পিঠের দাঁড়া সোজা রাখতে কয়েক লোকমা খাবারই আদম সন্তানের জন্য যথেষ্ট। আর বেশি খাবার ছাড়া যদি তা সম্ভব না হয়, তা হলে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য আর বাকি অংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে।’ (তিরমিজি : ২৩৮৩)

বছরে এক মাস রোজা রাখার ফলে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিশ্রাম পায়। এটা অনেকটা শিল্প-কারখানার মতো। কারখানার যন্ত্রপাতি বন্ধ করলে যেমন নতুন করে সচল হওয়ার গতি পায়, তেমনি রোজায় খাদ্য বিরতির মাধ্যমে পরিপাক-যন্ত্র নতুন শক্তি পায়। বর্তমান বিশ্বে ফাস্টিং বা রোজা জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে অনন্য ভূমিকা পালন করেছে বিখ্যাত জার্মান চিকিৎসাবিদের লিখিত ‘দ্য সিক্রেট অব সাকসেসফুল’ বইটি।

এতে লেখক জানান মানুষের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গঠন ও কার্যপ্রণালি বিশ্লেষণ করে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে বছরে কিছু দিন উপবাসের অভ্যাসের কথা। তার মতে, উপবাস খাবারের উপাদান থেকে সারা বছর জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ (টক্সিন) চর্বি ও আবর্জনা থেকে মুক্তি দেয়। ফলে শরীরের জমে থাকা বিষগুলো রমজান থেকে নির্গত অর্থে অগ্নিদগ্ধ হয়। তা ধ্বংস না হলে শরীরের রক্তচাপ, একজিমা, পেটের পীড়া ইত্যাদি রোগ জন্ম নেয়।

এ ছাড়া উপবাস কিডনি ও লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। মিসরের জাতীয় গবেষণাগারের প্রাণ-রসায়নের শিক্ষক ডাক্তার মোহাম্মদ সাইয়েদ বলেন, অনেকে বলে রোজা রাখলে শরীর দুর্বল হয়, মাথায় চক্কর দেয় কিংবা ঘুমের প্রকোপ বেশি হয়। তিনি সেটা ভুল প্রমাণিত করেন। রোজার মধ্যে দিনের খাদ্যগ্রহণ না করলে শরীরের ভেতর খাদ্য প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। প্রতিরোধ ক্ষমতা আলফা-১ ও গামা নামক প্রোটিন বৃদ্ধি পায়।

ফলে ক্যালসিয়ামকে জমতে বাধা দেয়। আর ক্যালসিয়াম জমেই সৃষ্টি হয় পাথর। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে রমজানের দিনে তা গঠিত হতে পারে না। একাদশ শতাব্দীর বিখ্যাত মুসলিম চিকিৎসাবিজ্ঞানী ইবনে সিনা রোগীদের ৩ সপ্তাহের জন্য উপবাস পালনের বিধান দিতেন।

রোজা মানব শরীরের কোনো ক্ষতি করে না। যারা মনে করে রোজা দ্বারা শূলবেদনা বেড়ে যায় তাদের ধারণা নিতান্তই অবাস্তব। কারণ উপবাসে পাকস্থলীর এসিড কমে এবং খেলেই বাড়ে। এই অতীব সত্য কথা না জেনে অনেক ডাক্তার শূলবেদনা রোগীকে রোজা রাখতে নিষেধ করেন।

আসুন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও জীবনের সফলতা লাভের উদ্দেশ্যে রোজা রাখার নিয়তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। এতেই নিহিত আছে মানুষের শারীরিক সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্যের গোপন রহস্য। সিয়াম সাধনায় আমরা হব স্বাস্থ্যবান ও পবিত্র আত্মার অধিকারী।

Facebook Comments Box
এ বিভাগের আরও খবর

৪ মাস আগে
ইসলাম

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
আরও ভোরের বাংলাদেশ সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com

সর্বশেষ