ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদক: নরসিংদী জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠা সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা এ. এইচ. এম. আজিমুল হক এবার নিয়োগ পেলেন ডেমরা এসিল্যান্ড হিসেবে। বিভিন্ন সূত্র অনুসন্ধানে জানা গেছে এ এইচ এম আজিজুল হক ও তার কয়েকজন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অধিগ্রহণকৃত জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ঘিরে শত […]
ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদক:
নরসিংদী জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠা সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা এ. এইচ. এম. আজিমুল হক এবার নিয়োগ পেলেন ডেমরা এসিল্যান্ড হিসেবে। বিভিন্ন সূত্র অনুসন্ধানে জানা গেছে এ এইচ এম আজিজুল হক ও তার কয়েকজন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অধিগ্রহণকৃত জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ঘিরে শত শত কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্যের একটি চক্র সক্রিয় থেকে কোটি কোটি টাকা হাতে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে । সম্প্রতি এই বিষয়ক কয়েকটি সংবাদপত্রে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরও এই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র এবং সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে দুর্নীতিবাজদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে এমন অভিযোগ উঠে এসেছে।
স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন মহলের অভিযোগে জানা যায়, অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ তালিকায় গুরুতর অনিয়ম করা হয়েছে। এমনকি মসজিদের নামে দানকৃত জমি ব্যক্তির নামে দেখিয়ে ক্ষতিপূরণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো বিষয়ও উঠে এসেছে, শুধু তাই নয় জমির শ্রেণী পরিবর্তন, অবকাঠামো বিলে অনিয়ম ও নানান দুর্নীতি অপকর্মে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে তিনি অবৈধ অর্থ লেনদেন ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে দৈনিক যুগান্তরে ২৮ এপ্রিল প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কথাও বিভিন্ন মহলে আলোচনায় এসেছে, যেখানে এসব অনিয়মের বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
নরসিংদী ভূমি অধিগ্রহণ শাখা এই কর্মকর্তা দুর্নীতি থেকে বাঁচতে নরসিংদী থেকে কিশোরগঞ্জ এর ভৈরবে এসিল্যান্ড হিসেবে বদলি হন। অবশেষে তাকে ঢাকার ডেমরা রাজস্ব সার্কেলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এএইচএম আজিমুল হক বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ছাত্রলীগের প্রত্যয়নে ২০২০ সালে এনএসআই এর সহকারী পরিচালক পদে চাকরি নেয়। আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠতা ছাড়া ঐ সময় চাকুরি হয়নি কারো। আওয়ামী লীগের সুপারিশ নিয়ে ২০০০ সালে এন এস আই তে সহকারী পরিচালক পদে তে চাকুরি পান ১৭৭ জনের মধ্যে একজন আজিমুল হক।
নরসিংদির ভূমি অধগ্রহণ কর্মকর্তা থাকাকালে অবাধ ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি টাকা আত্বসাত করে। যেটা দৈনিক যুগান্তরে অনুসন্ধাণী প্রতিবেদন ছাপা হয়।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পক্ষ
তার মুটো ফোনে করলে এ সকল বিষয় অস্বীকার করেন । ঐ সময়ে উঠা দুর্নীতির যে অভিযোগ তার কোন প্রমাণ নেই। বলে ভোরের বাংলাদেশ প্রতিবেদক কে জানান।
প্রশাসনিক সূত্র বলছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি মনন ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আজিমুল– বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে দু’জনই ছিলেন অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী, লেঙ্গুটি ইয়ার। দুজনেই একই হলে থাকতেন এবং ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে প্রভাবশালী পরিচিতি গড়ে তোলেন।
হাসিনার শাসনামলে একুশে হল ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা মনন ছিলেন তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত ক্ষমতাবান। তার শক্তিশালী সুপারিশেই আজিমুল ২০২০ সালে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)–এ চাকরি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি ৪০তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে দ্রুতই নিজ কর্মজীবনে প্রভাব ও পরিসর বাড়াতে থাকেন।
ক্ষমতা ও অর্থ—দুটি হাতিয়ার মিলে মনন ও আজিমুলের ভাগ্য একসময়ে ‘সুপার পাওয়ারফুল’ বন্ধু জুটিতে পরিণত হয়।
কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। হাসিনা সরকারের পতনের পর মনন পালাতে না পেরে গ্রেফতার হন এবং বর্তমানে কারাগারে আছেন। অন্যদিকে আজিমুল কৌশলে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতাবান অংশের ছায়াতলে আশ্রয় নিতে সক্ষম হন।
পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আজিমুল বিএনপি বলয়ে প্রবেশ করে নতুন প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, উচ্চপর্যায়ের ক্ষমতাবানদের ম্যানেজ করেই বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকার ডেমরা এলাকার এসিল্যান্ড পদে নিজের নিয়োগ নিশ্চিত করেন।